ব্রেকিং নিউজ
ভারতকে জ্বালানি ও সার সরবরাহের আশ্বাস রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার তাগিদ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাদবপুরে এবিভিপির তাণ্ডবের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল ও পাল্টা মিছিল তারেক মাসুদের চলচ্চিত্রে বাঙালি মুসলমানের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিফলন আছে: সলিমুল্লাহ খান ইরানকে একঘরে করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের লাইনে গ্যাস নেই, বৈদ্যুতিক চুলা কিনেও লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততায় নিষেধাজ্ঞা দিনাজপুরে সরকারি গুদাম থেকে ২২৭ টন সার বিক্রির অভিযোগ, আটক ১ ১১ দলের লংমার্চ ঘিরে কোনো আশঙ্কা নেই, অনুমতির প্রশ্ন নেই: গোলাম পরওয়ার ‘আপত্তিকর পোশাকে’ রাখিবন্ধনের বিজ্ঞপন, তুমুল বিতর্কে কৃতি
জাতীয়

চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক: পানিসম্পদ মন্ত্রী

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক। আশা করি, আমাদের স্বার্থের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেবেন। তবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ করছে বিএনপি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও সেমিনার হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেগুলো মোকাবিলা করেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন পানিসম্পদমন্ত্রী / তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার তিস্তা প্রকল্পকে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না গেলে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ও পানি প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই বাংলাদেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিস্তা নদীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নদী ব্যবস্থাপনায় পরিবেশের ভারসাম্য, কৃষি, মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে আগ্রহী বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশ গ্রহণ করবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং দেশের পানি বিশেষজ্ঞদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার কাজ করছে। গঙ্গা চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যথাসময়ে নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব সংকট মোকাবিলায় নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সম্প্রসারণ ও পানি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ তিনি কাছ থেকে দেখে আসছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্রুত এ অঞ্চলের মানুষের দুর্দশার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তিস্তা মহাপরিকল্পনার টেকসই বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, তিস্তার উজানে বিভিন্ন ড্যাম, ব্যারেজ ও বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে নদীতে নাব্য সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে। এসব সমস্যা সমাধানে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। আরও পড়ুন চিফ প্রসিকিউটর / হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অনুমতি লাগবে কি না, সেটা ভারতের বিষয় সেমিনারে জানানো হয়, তিস্তা অববাহিকায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। কিন্তু পানির সংকটের কারণে বর্তমানে মাত্র প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনুষ্ঠানে ‘তিস্তা চ্যালেঞ্জেস’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাসফিকুস সালেহীন। ‘সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট অপশনস’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান। ‘ওয়াটার কনজারভেশন অ্যান্ড ইরিগেশন ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, রংপুরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন যৌথ নদী কমিশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল ফজল এম সালেহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটি/ইএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>