ব্রেকিং নিউজ
মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া রুমিন আপার মধ্যেও ‘হাসিনার ছায়া’ দেখছেন দুষ্ট লোকেরা: রাশেদ খাঁন দুই সন্তানের জননী আঁখি বাঁচতে চান রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব-কমিটি পুনর্বহালে চট্টগ্রাম যুবদলের মিছিল কক্সবাজারের ডিসিসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দুবাইয়ের যন্ত্রাংশে চট্টগ্রামে বানানো বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ রাশিয়ায় গ্যাস কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত, আরেকজন নিখোঁজ নভোথিয়েটারের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা শেখ পরশ ও তার স্ত্রীসহ ৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সরকারের ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিজের মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মসমালোচনা করেছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সরকারের যে গতি এবং প্রধানমন্ত্রী যে গতি প্রত্যাশা করেন, সেই গতির সঙ্গে তিনি তাল মেলাতে পারছেন না। তবে এর পেছনে নিজের সদিচ্ছার অভাব নয়, বরং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠান, আইনগত জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাধাকে দায়ী করেছেন তিনি। জাগো নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি দাবি করেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, এলাকাপ্রীতি ও ব্যক্তিগোষ্ঠীর স্বার্থ—এসব বন্ধ করা হয়েছে। তার ভাষায়, এখন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জনগণের অর্থ জনগণের জন্য ব্যয়ের লক্ষ্যেই। মন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন। সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন, ছবি: জাগো নিউজ জাগো নিউজ: সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। একজন মন্ত্রী হিসেবে এই ছয় মাসকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? শেখ রবিউল আলম: সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এটা সরকারের পক্ষ থেকেই একটি অঙ্গীকার ছিল—ছয় মাস পর আমরা নিজেদের মূল্যায়ন করব। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই আমাদের জবাবদিহি থাকা দরকার। ছয় মাসে আমরা কতটুকু করতে পারলাম, পাঁচ বছরের যে লক্ষ্য, তার মধ্যে প্রথম ছয় মাসে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেল—সেগুলো চিহ্নিত করে নিজেদের মূল্যায়ন করা দরকার। ছয় মাস কোনো সরকারের কর্মক্ষমতা মাপার চূড়ান্ত সময় নয়। সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সেই সময়ের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করাই স্বাভাবিক। তবে আরও বেশি জবাবদিহি ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করার জন্য আমরা ছয় মাসকে একটি মূল্যায়নের সময় হিসেবে নিয়েছি। সেই জায়গা থেকে বললে, আমরা সফলভাবেই ছয় মাস শেষ করেছি। সরকারের অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। আগামীতে বাস্তবায়ন করতেই হবে—এমন প্রকল্পও নিয়েছি। আরও পড়ুন মীর শাহে আলম / ছয় মাসে খুব একটা সন্তুষ্ট নই, কাজ দৃশ্যমান হতে সময় লাগবে ব্যাংক থেকে আমরা এখনো কোনো ঋণ পাচ্ছি না জাগো নিউজ: ছয় মাসে আপনার মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি? শেখ রবিউল আলম: দু-একটি ক্ষেত্রে হয়তো ছয় মাসের পরিবর্তে আরও এক-দুই মাস বেশি সময় লাগছে। যেমন, আমরা ছয় মাসের মধ্যে ইলেকট্রিক বাস রাস্তায় নামাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রকল্প ও ক্রয়প্রক্রিয়ার কিছু জটিলতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ে বাস কিনতে গেলে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। বাজেটে অর্থ বরাদ্দের বিষয় আছে। প্রকল্প ছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করা যায় না। আবার সরাসরি ক্রয় করতে গেলেও নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সময় কমানোর জন্য আমরা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) গিয়েছি। প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, চুক্তির প্রক্রিয়া অনুযায়ী আগামী আড়াই মাসের মধ্যে ইলেকট্রিক বাস চালু করা সম্ভব হবে। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু হয়েছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে একজোড়া নতুন ট্রেন। রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১০ আগস্ট এ ট্রেন উদ্বোধন করেন। ছবি: মন্ত্রীর ফেসবুক থেকে জাগো নিউজ: বাংলাদেশ রেলওয়েকে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি প্রতিষ্ঠান বলা হয়। রেলকে লাভজনক করতে আপনার পরিকল্পনা কী? শেখ রবিউল আলম: আমি রেলকে শুধু লাভজনক করতে চাই না; তার চেয়ে বেশি চাই রেল যেন লোকসান না দেয়। পৃথিবীর খুব বেশি দেশ রেলকে লাভজনক করতে পেরেছে—এমন নয়। ভারত ও চীন ছাড়া উল্লেখযোগ্য উদাহরণ খুব বেশি নেই। তাদের বড় সুবিধা হলো বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন বা ফ্রেইট ক্যারি। আমাদের দেশে রেলে ফ্রেইট ক্যারির পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশ। এটাকে যদি ১৬ থেকে ১৮ শতাংশে নেওয়া যায়, তাহলে রেলের লোকসান থাকবে না। আরেকটি বড় বিষয় হলো রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। আমাদের অনেক রেললাইন ১৯৩০, ৪০ ও ৫০-এর দশকের। মিটারগেজ লাইনের যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী দিন দিন দুর্লভ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রায় ১০ বছর ধরে রেলের ভাড়া বাড়েনি। কিন্তু যাত্রীসেবার মান না বাড়িয়ে ভাড়া বাড়ানোও কঠিন। সবকিছু মিলিয়ে রেলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। আরও পড়ুন ৬ মাস পূর্তি / বিনিয়োগ-ব্যাংকিং-জ্বালানি সংকট, তারেক রহমানের সরকারের অর্জন কতটা? জনপ্রশাসন সংস্কার / অন্তর্বর্তী সরকার পারেনি, এখন বিএনপিও ‘নীরব’ জাগো নিউজ: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রেলের আয় কতটা বেড়েছে? শেখ রবিউল আলম: এই ছয় মাসে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ভাড়া না বাড়িয়েই আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২২৫ কোটি টাকা বেশি আয় করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমি মনে করি, ফ্রেইট ক্যারি আরও বাড়াতে পারলে ১৯ বছর ধরে যে লোকসান হয়ে আসছে, সেটি আরও কমানো সম্ভব। জাগো নিউজ: ফ্রেইট ক্যারি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কোথায়? শেখ রবিউল আলম: বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেই ফ্রেইট ক্যারি বেশি হয়। এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিসিং লিংক রয়েছে। এগুলো ঠিক করা গেলে রেলের পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে। মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে উন্নীত করা গেলে ট্রেনের গতি বাড়বে। এতে ফ্রেইট ক্যারিং আরও যাতায়াতবান্ধব হবে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকরাও রেল ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন। ঈদে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়া শিশু যাত্রীর সঙ্গে কুশলবিনিময় করছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ছবি: মন্ত্রীর ফেসবুক থেকে এছাড়া এডিবির সহায়তায় একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন ভৌত কাজের দিকে যাচ্ছি। এই টার্মিনাল হলে রেলের ফ্রেইট ক্যারি অনেক বাড়বে। বেসরকারি অনেক উদ্যোক্তাও রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে আগ্রহী। তাদের প্রস্তাব আমরা বিবেচনা করছি। আরেকটি বড় উদ্যোগ হলো ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন। এটি হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৯২ কিলোমিটার কমবে এবং আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন ঢাকা-কক্সবাজারসহ ছয় রুটে বাড়লো ট্রেনের ভাড়া প্রতিমন্ত্রী হাবিব / কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে জাগো নিউজ: ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে যাত্রীদের আগ্রহ আছে। সেখানে ট্রেন বাড়ানো হচ্ছে না কেন? শেখ রবিউল আলম: ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে মানুষের আগ্রহ অনেক। কিন্তু সমস্যা হলো পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও গ্যারেজ নেই। ফলে বর্তমানে মাত্র দুই জোড়া ট্রেন চলছে। আমরা যদি আট থেকে ১০ জোড়া ট্রেন চালাতে পারি, তাহলে এখান থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পুরোনো স্টেশনগুলোর মানোন্নয়ন ও যাত্রীবান্ধব করার জন্য বড় বরাদ্দ প্রয়োজন। এসব করা গেলে যাত্রীসেবা বাড়বে এবং রেলের আয়ও বাড়বে। আরও পড়ুন নৌপরিবহনমন্ত্রী / মোংলা নদীর ওপর ১০ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন হবে জাগো নিউজ: মোংলা সেতু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। আপনার পরিকল্পনা কী? শেখ রবিউল আলম: মোংলা সেতু নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চুক্তি হয়েছে এবং ডিটেইল ডিজাইনও সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে—এই সুসংবাদটি মোংলাবাসীকে দিতে পারলে ভালো লাগবে। এখন আমি দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু হিসেবে ভোলার সেতুটি করার চেষ্টা করছি। এ ধরনের প্রকল্পে সরাসরি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুত এগোনোর সুযোগ থাকে। আশা করছি, দ্রুত কোনো সুসংবাদ দিতে পারব। নিজ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ছবি: মন্ত্রীর ফেসবুক থেকে জাগো নিউজ: আগামী ছয় মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে কোন কাজগুলো সবচেয়ে বড় ডেলিভারি হিসেবে দেখছেন? শেখ রবিউল আলম: আমাকে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় দিতে হবে! তিনটি মন্ত্রণালয়ে যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে আমার মনে হয় মানুষের কাছে এগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা বেশি বৈদেশিক ঋণের দিকে যেতে চাইছি না। নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করার চ্যালেঞ্জ আছে। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোত্তম অর্থ বরাদ্দের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি পদ্ধতিকে বেশি উৎসাহিত করছি। আমার মনে হয়, উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে পিপিপি একটি ভালো পদ্ধতি। এতে জনগণ প্রকল্পের সুফল পায় এবং প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে একটি নির্দিষ্ট অবদানও রাখতে পারে। আমরা জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা মহাসড়ককে নির্দিষ্ট মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। জেলা সড়ক মানেই চার লেন করতে হবে—এমন নয়। সেখানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা আছে কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। আমরা জেলা সড়ককে প্রায় ৩৪ মিটার স্ট্যান্ডার্ডে এবং উপজেলা সড়ককে প্রায় ২৪ মিটার স্ট্যান্ডার্ডের কাছাকাছি রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের শ্রেণি ও প্রস্থ নির্ধারণ করা হবে। সড়ক, রেল ও নৌপথ—এই তিনটি খাত সমন্বয় করে একটি মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আরও পড়ুন এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়কের ব্যয় বাড়ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়ক-সেতু নির্মাণে ১২৩ কোটি টাকা অনুমোদন জাগো নিউজ: বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণের ব্যয় নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। আপনি কী বলবেন? শেখ রবিউল আলম: না জেনে একটি-দুটি বিদেশি অর্থায়নের চ্যালেঞ্জিং প্রকল্পের ব্যয় দেখিয়ে বাংলাদেশের সব সড়কের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। দেশকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই বলছি—সমালোচনা অবশ্যই থাকবে, তবে জেনে-বুঝে করা উচিত। আমি নিজে বিষয়টি যাচাই করেছি। বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করিয়েছি। কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে—এমন কিছু পাইনি। কিছু ব্যয় আছে, যেগুলো আমাদের বাস্তবতার কারণে এড়ানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশে ১০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক সময় ৭০ থেকে ১১০টি পর্যন্ত ছোট-বড় সেতু নির্মাণ করতে হয়। অন্য অনেক দেশে একই দূরত্বে পাঁচ-সাতটি সেতুই যথেষ্ট। আবার আমাদের কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত মাটি ভরাট করতে হয়। ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয়ও অনেক বেশি। একটি প্রকল্পের প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থ পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণে চলে যায়। ভারতে এ হার প্রায় ১৫ শতাংশ এবং অনেক দেশে ৭-৮ শতাংশের মতো। আমাদের অনেক নির্মাণসামগ্রী আমদানিনির্ভর। ফলে আমদানি ব্যয় ও পরিবহন ব্যয়ও যুক্ত হয়। আরেকটি বিষয় হলো মাটির গুণগত অবস্থা। বাংলাদেশে অনেক জায়গায় সড়ককে বেশি ভার বহনের উপযোগী করে তৈরি করতে হয়। ফলে গ্রাউন্ড ইমপ্রুভমেন্ট, আর্থ ফিলিংসহ নানা কাজের প্রয়োজন হয়। এসব কারণে বাংলাদেশের সড়ক নির্মাণ ব্যয় অন্য দেশের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে শেখ রবিউল আলম, ছবি: মন্ত্রীর ফেসবুক থেকে জাগো নিউজ: সড়ক কি রেল ও নৌপথের বিকল্প, নাকি তিনটিকে আলাদা করে দেখছেন? শেখ রবিউল আলম: আমি চাই সড়ক, রেল ও নৌপথের সমন্বয়। একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। যেখানে নৌপথের বিকল্প আছে, সেখানে সেটিকে উৎসাহিত করব। আমাদের বড় সৌভাগ্য হলো, প্রাকৃতিকভাবেই বাংলাদেশে বিশাল নৌপথ ছিল। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণ করছি। আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথে ড্রেজিং চলছে। সম্ভব হলে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু দখল, দূষণসহ নানা কারণে অনেক নৌপথ অচল হয়ে গেছে। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো বছরের তিন-চার মাস নৌযান চলাচলের পরিবেশ অনুকূল থাকে না। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক বিষয়ও আছে। তবে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথ অত্যন্ত লাভজনক ও জনবান্ধব। তাই মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থায় নৌপথের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই। আরও পড়ুন ঢাকার যানজট কমাতে ৭ সিদ্ধান্ত সরকারের ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক’ পদ্ধতিতে যানজটমুক্ত হবে ঢাকা জাগো নিউজ: ঢাকার যানজট কমাতে বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অটোরিকশা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? শেখ রবিউল আলম: রাজধানীর মতো মেগাসিটিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় এভাবে অটোরিকশা চলতে পারে না। এটাকে সমন্বয় বা সাময়িকভাবে সামলানোর বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; প্রয়োজন হলে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো, অপসারণটা কীভাবে হবে। এর সঙ্গে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই একটি নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা ছাড়া এটা করা যাবে না। আমরা চাই, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অঞ্চলগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে অটোরিকশা সরিয়ে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের চলাচল সীমিত করা হবে। তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। ঢাকা শহরে যেখানে-সেখানে যে কেউ অটোরিকশা নিয়ে চলবে—এটা আমি চাই না। যারা অটোরিকশার সঙ্গে জীবন-জীবিকার জন্য যুক্ত, তাদের প্রতি আমার আবেদন—এই দেশ, এই শহর আমাদের সবার। শহর বাঁচলে আমরা সবাই বাঁচব। শহর কার্যকর থাকলে আমাদের অর্থনীতি থাকবে, সভ্যতা থাকবে। পরিবর্তন করতে হলে কিছুটা ত্যাগ সবাইকেই করতে হবে—জনগণকে, রাষ্ট্রকে এবং অটোরিকশার মালিক-চালকদেরও। আমরা যদি দুই-তিন বছর বৃহত্তর স্বার্থে সহযোগিতা করি, তাহলে অবশ্যই পরিবর্তন সম্ভব। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে শেখ রবিউল আলম, ছবি: মন্ত্রীর ফেসবুক থেকে জাগো নিউজ: আপনার একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। নিজের কাজের জায়গায় কোথায় আত্মসমালোচনার সুযোগ দেখেন? শেখ রবিউল আলম: আত্মসমালোচনা যদি করতে বলেন, তাহলে আমি বলব—সরকার যে গতিতে কাজ করতে চাইছে, প্রধানমন্ত্রী যে গতিতে চান, সেই গতির সঙ্গে আমি পারছি না। আমার সদিচ্ছার অভাব একেবারেই নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর যে জীর্ণতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো রাতারাতি জয় করে দ্রুততম সময়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আমি যতটুকু অগ্রসর হয়েছি, আমার কাছে হয়তো সেটি যথেষ্ট মনে হতে পারে। কিন্তু জনগণ হয়তো তা মনে করবে না। কারণ জনগণের প্রত্যাশা অনেক এগিয়ে গেছে। তারা আরও দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চায়। আমি দিন-রাত চেষ্টা করছি দীর্ঘদিনের জীর্ণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে। আমার নিজের কাছেও মনে হয় আরও দ্রুত করা দরকার। কিন্তু বাস্তবে এগোতে গিয়ে দেখছি, প্রত্যাশার সঙ্গে আমার গতির মিল হচ্ছে না। আইনগত জটিলতা আছে, প্রক্রিয়াগত বাধা আছে, প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা আছে। এগুলো অতিক্রম করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আরও পড়ুন ছয় মাসে সরকার ভিন্ন কিছু দেখাতে পারেনি জনগণের অর্থ লোপাট যেন বন্ধ করা যায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছি তবে একটি জায়গায় আমরা অত্যন্ত কঠোর। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, এলাকাপ্রীতি কিংবা ব্যক্তিগোষ্ঠীর স্বার্থ—এসব শতভাগ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সেটা করা হচ্ছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এখন যে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো জনগণের টাকা, জনগণের জন্য ব্যয় করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লাভবান করার জন্য প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনবান্ধব প্রকল্প নেওয়া এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা। কিন্তু একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ন্যূনতম যে সময় প্রয়োজন, সেটুকু সময়ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সমন্বয় করা এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জাগো নিউজ: আপনার ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য এবং  প্রশ্নগুলোর খোলামেলা উত্তর দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। শেখ রবিউল আলম: আপনাকেও ধন্যবাদ, জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ। কেএইচ/এমএমএআর/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>