বিজ্ঞাপন
ধান ও চাল উৎপাদনে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা নওগাঁ। জেলার বিভিন্ন মোকাম ও চালকল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নওগাঁর সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয় বিদেশেও। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার চালকলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে চালের গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চালকল মালিকদের তথ্যমতে, নওগাঁয় ৫২টি অটোমেটিক রাইস মিলসহ ছোট-বড় প্রায় সাড়ে তিনশ’ চালকল সচল রয়েছে। এসব মিলে জিরাশাইল, সম্পা কাটারী, স্বর্ণা-৫, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন জাতের ধান প্রক্রিয়াজাত করে চাল উৎপাদন করা হয়। বিশেষ করে নওগাঁর সুগন্ধি চাল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। কিন্তু বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চালের মান ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চালকল মালিকেরা বলছেন, ধান শুকানোর (ড্রায়িং) প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও সময় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে ড্রায়ার বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ এলে আবার পুরো প্রক্রিয়া চালু করতে সময় লাগে। এতে ধানের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে চালের রং, গুণগত মান ও ভাঙার হারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি মিল বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হলেও মজুরি দিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচও বাড়ছে।
আরও পড়ুন
তিনজনকে নিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা, বৈছাআ নেতা মাহদীসহ সবাই আটক
বাংলাদেশ অটোমেটিক রাইচ মিল অনার্স অ্যাসোসিয়েশন নওগাঁর সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, অটোমেটিক রাইস মিলে একসঙ্গে অনেক মোটর ও যন্ত্রপাতি চালাতে হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় এসব যন্ত্রপাতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। কয়েকদিন ধরে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসছে। আবার বিদ্যুৎ এলেও মিল স্বাভাবিকভাবে চালু করতে সময় লাগে।
তৌফিকুল ইসলাম বলেন, একটি অটোমেটিক রাইস মিল বন্ধ হওয়ার পর আবার চালু করতে পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। ফলে দিনের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ থাকছে। এতে আমাদের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে শুধু উৎপাদনই নয়, মিলের যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শহরের আড়তদারপট্টির পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সুকুমার ব্রম্ম বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মিলগুলোতে উৎপাদন কমে গেলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে মোকামেও পড়বে। বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত চাল থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন কমতে থাকলে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আগেই লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, নওগাঁর চালের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন মোকামের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে। সুগন্ধি চালের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয়। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে চালের মানও খারাপ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চালের মান নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। কোনোভাবে মান খারাপ হয়ে গেলে একবারের জন্য হলেও ক্রেতার আস্থা নষ্ট হতে পারে। তখন দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারও হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, বর্তমানে নওগাঁর মোকাম ও মিলগেটে চালের চাহিদা তুলনামূলক কম। তাই উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব বাজারে খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু সামনে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে গেলে সংকট তৈরি হতে পারে। তখন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকলে চালের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরমান হোসেন রুমন/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন