বিজ্ঞাপন
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের বেতন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে খাত ও শিল্পের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত বিদেশি কর্মী বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমাদ জাহিদ হামিদি। মানবসম্পদমন্ত্রী দাতো’ শ্রী রামানান রামাকৃষ্ণন বৈঠকে অংশ নেন।
আরও পড়ুন
কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম, বিপাকে মালয়েশিয়ার ঠিকাদাররা
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বিদেশি কর্মীদের বেতন ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও সততা-নির্ভর প্রক্রিয়ার আওতায় আনা। একই সঙ্গে দেশের শ্রমবাজারে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাত ও শিল্পে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন থাকলেও এক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রকৃত শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হবে। এজন্য বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, মাদানি সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার পুরো ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে শ্রমবাজারের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদা, শ্রম আইন মেনে চলা এবং কর্মীদের কল্যাণ এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশি কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদেরও সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও বিভিন্ন শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পখাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, বেতন প্রদান এবং শ্রম অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদের জোগান নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এমআরএম
বিজ্ঞাপন