জাতীয়

দাশেরকান্দি শোধনাগারের সুফল পেতে আরও ১০৪৫ কোটি ব্যয়ের ছক

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
তিন হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ নেটওয়ার্ক না থাকায় মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল। এ অবস্থায় শোধনাগারটি কার্যকর করতে আরও এক হাজার ৪৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি নিয়ে প্রভাব মূল্যায়ন সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের নানা দুর্বল দিক উঠে এসেছে। নতুন করে ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের জন্য পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহের পাইপলাইন নির্মাণ’ করতে চায় ঢাকা ওয়াসা। দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার/ফাইল ছবি এজন্য এক হাজার ৪৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর পয়ঃব্যবস্থাপনা হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে কমিশন।এর আগে তিন হাজার ৩৭০ কোটি টাকার প্রকল্পটি জুলাই ২০১৫ সালে শুরু হয়ে ডিসেম্বর ২০২৩ সালে শেষ হয়। পুরো টাকা ব্যয় হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে। নতুন করে প্রকল্প নেওয়া প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পের ডিপিপি সঠিকভাবে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা দুটি জিনিস করছি। প্রথমত, রেট শিডিউলে হাতে দিয়েছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন রকম রেট শিডিউল আছে। সেগুলো সমন্বিত করার চেষ্টা চলছে। এক রেট শিডিউল অনুযায়ী যাতে প্রত্যেকটি জিনিস তৈরি হয়।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, রেট শিডিউলের বাইরেও বেশ কিছু খাত আছে। যেখানে নানাভাবেই অর্থ বরাদ্দের কথা আমরা আগে শুনেছি। সেগুলো যথাসম্ভব চিহ্নিত করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের মধ্যে যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি সে উদ্যোগ নিচ্ছি। একই সঙ্গে এটা যাতে সাশ্রয়ী হয় এবং জনগণের অর্থ লোপাটের ব্যবস্থা বন্ধ করা যায় সেটার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের ক্যাচমেন্ট এলাকায় পয়ঃলাইন নির্মাণ করা। এর মাধ্যমে গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী ও বাড্ডা (আংশিক) এলাকার পয়ঃবর্জ্য দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারে শোধনের মাধ্যমে পয়ঃসেবা নিশ্চিতকরণসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার লেকের পানির গুণগত মানোন্নয়ন করা। আরও পড়ুন পয়ঃবর্জ্য নেই, ঝিলের পানি শোধন করেই চলছে দাশেরকান্দি এসটিপি এছাড়া গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকসহ আশপাশের জলাশয়ের দূষণ কমিয়ে পরিবেশের মানোন্নয়ন করা ও প্রায় ৯ লাখ মানুষকে সরাসরি পয়ঃসেবার আওতায় আনা। তবে প্রকল্পের আওতায় পয়ঃব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যর কথা বলা হয়নি। চলতি সময় থেকে জুন ২০২৯ মেয়াদ নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ওয়াসার অন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের মতো ঘটনা আছে। সুতরাং, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই সবুজ পাতায় যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী ধাপে যখন প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে আসবে তখন প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে প্রস্তাবিত ব্যয় ভালোভাবে দেখতে হবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরবাসীর শতভাগ পয়ঃসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারটি বাস্তবায়ন শেষ হয় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। পয়ঃশোধনাগারটির কার্যক্রম ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধানে চলমান। আরও পড়ুন ৩৩৭০ কোটি টাকা খরচের পরও পানিতে দুর্গন্ধ, নতুন ব্যয়ের ছক গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে গুলশান লেক আবর্জনামুক্তকরণ বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় স্যুয়ারেজ কালেকশন নেটওয়ার্ক প্রকল্প নেওয়ার মাধ্যমে গুলশান, বনানী ও বারিধারার পয়ঃবর্জ্য হাতিরঝিল হয়ে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের ক্যাচমেন্টের গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী ও বাড্ডা (আংশিক) এলাকার পয়ঃবর্জ্য দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারে পাঠানোর জন্য পয়ঃলাইন নির্মাণের একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে গত ১১ জুন প্রস্তাবিত প্রকল্পের ওপর প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠন করে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত নেই। এটি সরকারের প্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প হওয়ায় এডিপির সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার/ফাইল ছবি এ প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরবাসীর শতভাগ পয়ঃসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা প্রণীত স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্য্যান অনুযায়ী নির্মাণ করা হয় দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার। এটি বর্তমানে হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ওয়াসা কম্পোনেন্ট থেকে হাতিরঝিলের দক্ষিণ ও উত্তর পাশে ১২শ ৩০ মিলিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১৮শ ৫০ মিলিমিটার ব্যাসের ডাইভারশন সুয়্যার ট্রাঙ্ক মেইন লাইনের দক্ষিণ পাশে ছয়টি ও উত্তর পাশে পাঁচটি স্পেশাল ডাইভারশন স্ট্রাকচারের সঙ্গে সংযুক্ত। এসব এলাকা হলো- পান্থপথ এলাকা (পান্থপথ বক্স কালভার্টের সঙ্গে সংযুক্ত এলাকা), ধানমন্ডি (পূর্বাংশ) (ধানমন্ডি লেকের পূর্বাংশ পান্থপথ বক্স কালভার্টের সঙ্গে সংযুক্ত), কলাবাগান, রমনা, বেইলি রোড, ইস্কাটন এলাকা, মধুবাগ, ওয়্যারলেস রোড, নয়াটোলা (গুদারাঘাট), মহানগর হাউজিং এলাকা, উলন, মৌচাক, আউটার সার্কুলার রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, তেজগাঁও এলাকা, মহাখালী (মহাখালী বক্স কালভার্টের মাধ্যমে সংযুক্ত এলাকা), নাখালপাড়া, নিকেতন, বাড্ডা, বনানী ও গুলশান (আংশিক) প্রভৃতি এলাকা থেকে কম্বাইন্ড স্যুয়ারেজ সিস্টেমে আগত পয়ঃবর্জ্যের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আরও পড়ুন দাশেরকান্দিতে পরীক্ষামূলক বর্জ্য শোধন শুরু, প্রাণ ফিরবে দুই নদীতে ফলে বর্ষা মৌসুমে পূর্ণক্ষমতায় চালু থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পূর্ণক্ষমতায় পয়ঃশোধনাগারটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পয়ঃশোধনাগারের ক্যাচমেন্ট এলাকায় পয়ঃসেবা নিশ্চিত করাসহ পয়ঃশোধনাগারটি পূর্ণক্ষমতায় ব্যবহার করার জন্য পয়ঃশোধনাগারের ক্যাসমেন্টে জরুরিভিত্তিতে স্যুয়ারেজ কালেকশন নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার কাছে এ বিষয়ে জানতে লিখিত প্রশ্ন পাঠান প্রতিবেদক। ওয়াসার কাছে পাঠানো প্রশ্নটি ছিল- ঢাকঢোল পিটিয়ে তৈরি হয়েছিল অত্যাধুনিক দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি। উদ্দেশ্য ছিল পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে এখনো দুর্গন্ধে নাকাল নগরবাসী। নতুন করে এক হাজার ৪৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকার প্রকল্প নিলেও নগরীর পয়ঃব্যবস্থাপনা হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে কমিশন। এ অবস্থায় ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের জন্য পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহের জন্য পাইপলাইন’ প্রকল্পে পয়ঃব্যবস্থাপনা সফল হবে কি না? আরও পড়ুন ঈদে ঘোরাঘুরি / ঢাকার কাছেই গ্রামের ছোঁয়া পেতে দাশেরকান্দি-কায়েতপাড়ায় পরে ঢাকা ওয়াসার উপ-জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের লিখিত বক্তব্যে জানান, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারটি বর্তমানে হাতিরঝিলের উভয় পাশে বিদ্যমান স্পেশাল সিউয়েজ ডাইভারশন স্ট্রাক্চারের (এসএসডিএস) সঙ্গে সংযুক্ত এলাকা থেকে কম্বাইন্ড সিস্টেমে আগত পয়ঃবর্জ্যের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আলোচ্য পয়ঃশোধনাগারের ক্যাচমেন্ট এলাকায় পয়ঃলাইন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের মাধ্যমে ক্যাচমেন্টভুক্ত মহানগরবাসীকে শতভাগ পয়ঃসেবার আওতায় আনতে পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ লাইন নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, প্রস্তাবিত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ লাইন নির্মাণ করা হলে ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী, বনানী ডিওএইসএস, মহাখালী, মহাখালী ডিওএইসএস, বারিধারা, বারিধারা ডিওএইসএস ও বাড্ডা (আংশিক) এলাকার পয়ঃসেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, প্রস্তাবিত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ লাইন নির্মাণ করা হলে প্রকল্পে পয়ঃব্যবস্থাপনার মান সামগ্রিকভাবে উন্নত হবে। এমওএস/এএসএ/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>