বিজ্ঞাপন
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে ১২টি রেসকিউ স্পিডবোট দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১২টি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এসব স্পিডবোট হস্তান্তর করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের গোল্ডেন ফাইবার গ্লাস কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাপান সরকার ও জাইকার প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
রেসকিউ স্পিডবোটগুলো বরিশাল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, খুলনা, বরগুনা, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় জরুরি যোগাযোগ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যবহার হবে এসব নৌযান।
আরও পড়ুন
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৪৩ কোটি টাকার স্কলারশিপ দিচ্ছে জাপান
অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো গত জুলাইয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আকস্মিক বন্যার সময় জাইকার সহায়তায় দেওয়া রেসকিউ বোটগুলো জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন।
নতুন নৌযানগুলো দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলেও জানান তিনি।
তাকাহাশি জুনকো বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। আজকের এই নৌযান হস্তান্তর বাস্তবভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে আরও নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় চলমান সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ জেলা-উপজেলায় আরও ৪৩টি অগভীর পানিতে চলাচল উপযোগী রেসকিউ স্পিডবোট বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও জামালপুরসহ বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর বন্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান দুর্যোগঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইএইচও/এএসএ
বিজ্ঞাপন