জাতীয়

সময় থাকলেও ধান সংগ্রহ বন্ধ, বিপাকে গাইবান্ধার কৃষক

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও গাইবান্ধায় এরই মধ্যে ধান সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। ফলে অভিযান শেষ হতে এখনো দুই সপ্তাহের মতো সময় বাকি থাকলেও সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না কৃষকেরা। বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এতে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ধান বিক্রি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার অনেক কৃষক। কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা না করেই, কৃষি অফিস থেকে কৃষক কার্ডের তালিকা ধরে মহাজনরা আবেদন করছেন। শুধু সেই আবেদন থেকে নামগুলোই লটারির মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, অনেকের কৃষক কার্ড থাকলেও মূলত তাদের ধানের আবাদের জমি নেই। তাদের কাছ থেকে মহাজনরা দুই চার হাজার টাকা দিয়ে স্লিপ কিনে সরকারি গুদামে ধান দিয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, অনেক কৃষক পরিবারে বাড়তি আয়ের উপায় নেই। ধান চালের ওপর নির্ভরশীল হলেও তারা ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না। কৃষকের গোলায় এখনো উদ্বৃত্ত ধান আছে। কিন্তু খাদ্য বিভাগ ধান কিনছে না। সরকার প্রতিমণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ মোটা ধান ৮৫০ টাকা ও চিকন ৯৫০ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। ধান ক্রয় বন্ধ করায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অথচ সরকার অতিরিক্ত ধান কেনার জন্য খাদ্য বিভাগকে নির্দেশ দেয়। তিনি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ধান কেনা অব্যাহত রাখার দাবি জানান। আরও পড়ুন বাঁচানো গেল না চরের একমাত্র স্কুলটি   জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯ হাজার ৫৬৩ টন। গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে ধান চাল কেনা শুরু হয়। চলার কথা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু গাইবান্ধা খাদ্য বিভাগ গত ৯ আগস্ট থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়। ফলে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। সূত্রটি আরও জানায়, জেলায় ১১টি খাদ্য গুদামে ধান ও চালের ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার টন। বর্তমানে মজুত আছে ৩৯ হাজার টন। খাদ্য বিভাগের হিসেবেই গুদামে জায়গা ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবছর জেলায় বোরো ধানের চাষ হয় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর। বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয় ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ টন। উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ টন। উদ্বৃত্ত থাকে শুধু বোরো ধান ৯৭ হাজার ৯২৩ টন। গোবিন্দগঞ্জের পুরনদগ গ্রামের কৃষক হাফেজ আলী বলেন, এ বছর আমার জমিতে ১২০ মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৩০ মণ খাওয়ার জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ৯০ মণ ধান বিক্রি করে সংসারের দেনা মেটাবো। কিন্তু বর্তমান বাজারে ধান ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় মণ বেচাকেনা হচ্ছে। এই দামে ধান বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারলে অনেকটা লাভ হতো। কিন্তু খাদ্যবিভাগ ধান কিনছে না। ফলে ধান বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হায়দার আলী (৬০) বলেন, আমার সংসারে কেউ চাকরি-ব্যবসা করে না। ধান-চাল বিক্রি করে দেনা মেটানো লাগে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম। কম দামে ধান বিক্রি করলে লোকসান হবে। তাই ধান গোলায় রেখেছি। পাইকার দাম কম বলে, সরকার তো গুদামে ধান নেয় না। এখন কী করবো চিন্তা করছি। সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর গ্রামের কৃষক আছিম মন্ডল বলেন, প্রকৃত যারা কৃষক, তারা সরকারি কোনো গোডাউনে ধান দিতে পারেনি। যাদের নাম লটারি উঠছে, এরা তো নিজের খাবারের ধানই আবাদ করে না। এরা কোথায় থেকে সরকারের ঘরে ধান দেবে। নাম উঠছে কোন ব্যাপারির কাছে বিক্রি করছে। যে কৃষকগুলো অতিরিক্ত দামে তেল-সার কিনে আবাদ করছে। ধান কেনা বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে। তাই ধান ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে। আনোয়ার আল শামীম/এনএইচআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>