জাতীয়

বিবাহবিচ্ছেদের কষ্ট থেকে সিটির ড্রেসিংরুমে গার্দিওলার বিস্ফোরণ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ম্যানচেস্টার সিটিতে দীর্ঘ এক দশকের সাফল্যের পেছনে পেপ গার্দিওলার কঠোর মানসিকতা, শৃঙ্খলা ও ফুটবলদর্শনের বড় ভূমিকা ছিল। তবে সেই সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিজীবনে যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, এবার সেটিও প্রকাশ্যে এসেছে। নতুন তথ্যচিত্রে নিজের বিবাহবিচ্ছেদ ও ব্যক্তিগত সংকটের কথা বলতে গিয়ে গার্দিওলা খেলোয়াড়দের উদ্দেশে দিয়েছেন আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ এক বক্তব্য। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর নতুন তথ্যচিত্র ‘এ বিউটিফুল অবসেশন’-এ উঠে এসেছে সেই দৃশ্য। ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে শেষ দিকের সময়ের একটি ড্রেসিংরুম বক্তৃতায় নিজের দাম্পত্য জীবনের উদাহরণ টেনে খেলোয়াড়দের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া আবেগ ও তাড়না ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান স্প্যানিশ কোচ। ঘটনাটি ঘটে চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাসের কাছে সিটির ২-০ গোলে হারের পর। সেই সময় ভয়াবহ ছন্দপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল দলটি। ১০ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই হেরেছিল সিটি, জয় পেয়েছিল মাত্র একটিতে। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন গার্দিওলা। ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি একটা কথা স্বীকার করতে চাই। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেছি।’ এরপর নিজের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা সেরার প্রসঙ্গ টেনে গার্দিওলা বলেন, ‘তিনি আমার স্ত্রী, এখন সাবেক স্ত্রী। আমি তাকে অসম্ভব ভালোবাসি। কিন্তু আমরা আমাদের আবেগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। অনেক কারণেই আমরা সেই আবেগ হারিয়েছিলাম।’ গার্দিওলার এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি ছিল না; তিনি সেটিকে ফুটবলের সঙ্গে মিলিয়ে খেলোয়াড়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। ‘আমি তাকে ভালোবাসি? অবশ্যই। সে কি আমাকে ভালোবাসে? অবশ্যই। কিন্তু আমরা আবেগ হারিয়ে ফেলেছিলাম’- বলেন তিনি। এরপরই খেলোয়াড়দের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন সিটি কোচ, ‘তোমরা ফুটবল খেলো কিভাবে? শুধু বেতন পাও বলে? নাকি ভেতর থেকে কিছু একটা তাড়না অনুভব করো? সেই আবেগ কোথায়?’ গার্দিওলার মতে, জীবনের যেকোনো কাজেই সাফল্যের জন্য আবেগ ও ভালোবাসা প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা জীবনে যা-ই করতে যাও, আবেগ নিয়ে করো। আমি ভালো খেলোয়াড় চাই না। আমি আবেগী খেলোয়াড় চাই।’ গার্দিওলার সঙ্গে ক্রিস্টিনা সেরার সম্পর্ক ভেঙে যায় ২০২৪ সালে। তবে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই তুলনামূলকভাবে গোপনীয় থাকা গার্দিওলার জন্য এই স্বীকারোক্তি তাই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তথ্যচিত্রে গার্দিওলার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সেই সময় ব্যক্তিগত জীবনের সংকটও তার মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলেছিল। একই সঙ্গে মাঠে সিটির হতাশাজনক পারফরম্যান্স পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। ম্যানচেস্টার সিটিতে গার্দিওলার শেষ কয়েকটি বছর ছিল সাফল্য ও সংকটের মিশ্র অভিজ্ঞতা। ১০ বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচে পরিণত হন। তার অধীনে সিটি একাধিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য ট্রফি জেতে। কিন্তু শেষদিকে দলের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। চলতি গ্রীষ্মে ইতালির জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সুযোগও নাকি ফিরিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা। নতুন তথ্যচিত্রে তার বক্তব্য থেকেও বোঝা যায়, আপাতত দ্রুত আবার ডাগআউটে ফেরার তাড়না নেই তার। ‘আমি নিজেও জানি না আমি কী করতে যাচ্ছি,’ বলেন গার্দিওলা। ‘সত্যি বলতে, আমি জানি না। তবে নিশ্চিতভাবে আবার ফিরে আসাটা কঠিন হবে। আজ আমার অনুভূতি এমনই।’ কেন ফিরে আসা কঠিন মনে হচ্ছে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনে এবং পেশাগত জীবনে যা যা ঘটেছে, সেগুলো থেকে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে হবে। আমাকে অন্য কিছুতে নিজেকে খুঁজে নিতে হবে।’ এরপর নিজের মাতৃভূমি কাতালোনিয়ার একটি শব্দের ব্যাখ্যা দেন গার্দিওলা- ‘বাদার’। তার ভাষায়, এর অর্থ অনেকটা কিছু না করে স্থির হয়ে বসে থাকা, চারপাশের জীবনকে দেখার সুযোগ নেওয়া। ‘কাতালোনিয়ায় একটি শব্দ আছে- বাদার। এর অর্থ এমনভাবে বসে থাকা। তাই সেটাই করব। এই মুহূর্তে এটি আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য,’ বলেন তিনি। গার্দিওলার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, ম্যানচেস্টার সিটির দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের পর তিনি আপাতত ফুটবল থেকে কিছুটা দূরে থেকে নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে চান। তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায়ের শেষদিকে যে ব্যক্তিগত লড়াই চলছিল, নতুন তথ্যচিত্রে সেটিই যেন প্রথমবারের মতো কিছুটা পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। আর খেলোয়াড়দের উদ্দেশে সেই আবেগঘন বক্তব্য হয়তো গার্দিওলার ফুটবল দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকও সামনে আনে- শুধু প্রতিভা বা পারিশ্রমিক নয়, সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকতে প্রয়োজন ভেতর থেকে আসা সেই ক্ষুধা ও আবেগ। ‘এ বিউটিফুল অবসেশন’ ১৯ আগস্ট ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে একচেটিয়াভাবে প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>