জাতীয়

প্রভোস্টের কক্ষে শিক্ষার্থীকে আটকে রাখার সিসিটিভি ফুটেজ দেখালো প্রশাসন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে হেনস্তা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া ও জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রভোস্টের কক্ষে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রক্টরের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সামনে দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইব্রাহিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বন্ধু আবির হাসানের দাবি, ফেসবুকে প্রভোস্টের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার জেরে ইব্রাহিমকে হল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। আবির হাসান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে ইব্রাহিমকে প্রভোস্টের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধমক দেওয়া এবং কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তার মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ইব্রাহিম কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রভোস্ট দরজার সামনে গিয়ে তার পথ আটকান এবং হলের কয়েকজন স্টাফকে সেখানে ডেকে আনা হয় বলে তিনি দাবি করেন। আবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে প্রভোস্ট ইব্রাহিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তা হলের এক স্টাফের কাছে দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে ফোনটি ইব্রাহিমকে ফেরত দেওয়া হয়। এসময় ইব্রাহিমের পরিবারের সঙ্গে হলের একজন স্টাফ ফোনে কথা বলেন বলেও জানান আবির। তার দাবি, বিষয়টি জানার পর ইব্রাহিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে তাকে একটি লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয় এবং প্রভোস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়। আবির আরও দাবি করেন, প্রথম লিখিত বক্তব্যটি প্রভোস্টের পছন্দ না হওয়ায় ইব্রাহিমকে সেটি পুনরায় লিখতে বলা হয়। পরে তাকে ফেসবুকে প্রভোস্টের প্রশংসা করে পোস্ট দিতে এবং হল কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি কারও সঙ্গে শেয়ার না করতে বলা হয়। অন্যথায় তার হলের সিট ও ছাত্রত্ব বাতিল এবং সাইবার আইনে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিট পর ইব্রাহিমকে হল কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হয়। আরও পড়ুন ঢাবির ফজলুল হক হলে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি আবু নাঈম তদন্ত চলাকালে প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে নতুন প্রভোস্ট দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। এসময় তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও হলের কোষাধ্যক্ষ আল আমিন শিকদার ভিপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভিডিও শুধু এটাই না, বাকিগুলোও তদন্ত হবে, সব দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’— এমনটা বলেন আবির হাসান। তার ভাষ্য, আল আমিন শিকদার প্রভোস্টের নিজ বিভাগের শিক্ষক হওয়ায় তদন্ত কমিটিতে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এক বক্তব্যে দাবি করেন, প্রশাসনের সামনে ভুক্তভোগী, হল ভিপি ও ভুক্তভোগীর বন্ধুর উপস্থিতিতে প্রভোস্ট কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছে এবং ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ শাকিল প্রভোস্ট কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ ঢাবির সব শিক্ষার্থীর কাছে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।  এর আগে ১৬ আগস্ট ইব্রাহিমকে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসরাফিল প্রাংকে। তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটি/একিউএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>