বিজ্ঞাপন
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশে ২ হাজার ৩০০ একরের বেশি বনভূমি উদ্ধার করে সেখানে বনায়ন করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২ কোটি ৮৫ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উপকূলীয় ৪ হাজার ৪০০ একর এলাকায় আরও দুই কোটি কেওড়া গাছ লাগানো হবে। একই সঙ্গে এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কার্বন ক্রেডিট কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও নেক্সটইরা ফর এনভায়রনমেন্ট,ইকুইটি অ্যান্ড রাইটস (এনইইআর)- এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক দূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও সীসা দূষণ বর্তমানে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। সম্প্রতি এক্সটেন্ডেট প্রোডাক্ট রেসপন্সিবিলিটি (ইপিআর) নীতিমালার গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এর ফলে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি সীসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি মনে করেন, শুধু আইন বা নীতিমালা করলেই হবে না; উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্লাস্টিক ও সীসা দূষণের উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী-নালা ও জলাশয়ে নির্বিচারে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
আরও পড়ুন
ঢাবির নারী হলে প্রবেশের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সুপারিশ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখন ‘ফোর আর’ নীতির বাস্তবায়ন জরুরি। যেখানে প্লাস্টিকের বিকল্প রয়েছে, সেখানে পচনশীল ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে তা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।
অনুষ্ঠান শেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ২৯৩ জনকে সনদ দেওয়া হয়।
সমাপনীতে আয়োজকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও টেকসই ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন