বিজ্ঞাপন
ইমরান হাশমির অভিনয় নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে ‘আওয়ারাপান ২’ ঘিরে। সিনেমায় তার অভিনয়ের পাশাপাশি নজর কেড়েছে অভিনেতার সুঠাম শারীরিক গড়নও। ৪৭ বছর বয়সেও দীর্ঘদিনের ‘চকলেট বয়’ ইমেজের বাইরে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে বদলে নেওয়া ইমরান এবারও ফিটনেস নিয়ে আলোচনায়।
সিনেমার জন্য ঠিক কীভাবে এমন শরীর তৈরি করেছেন, তা বিস্তারিত জানা না গেলেও, অভিনেতার দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার রুটিন থেকে তার ফিট থাকার কিছু বিষয় জানা যায়।
ফিটনেস মানেই শুধু শরীরচর্চা নয়
ইমরানের মতে, ফিট থাকার ক্ষেত্রে শুধু নিয়মিত ওয়ার্কআউট করলেই হয় না। খাবারের সঙ্গে নিজের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে ‘চকলেটপ্রেমী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই অভিনেতা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতেও পছন্দ করেন। তবে পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে পরিমিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
যারা খাবার ভালোবাসেন এবং বিভিন্ন রকমের রান্না খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য দীর্ঘদিন কঠোর ডায়েট মেনে চলা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় খাবারে নানা ধরনের উপকরণ ও মসলা ব্যবহারের কারণে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। ইমরানের খাদ্যাভ্যাসেও তাই নিয়মের পাশাপাশি নিজের পছন্দের খাবারের জন্য কিছুটা জায়গা রয়েছে।
বুলেট কফি দিয়ে দিনের শুরু
এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করছেন, যা তার শরীরের জন্য কার্যকর বলে মনে হয়। দিনের শুরুতে বুলেট কফি তার রুটিনের অংশ। ঘি, নারিকেল তেল ও কফি দিয়ে তৈরি এই পানীয় তিনি সকালে ও বিকেলে দুইবার পান করেন।
প্রতিদিন প্রায় একই খাবার
ইমরান খাবারে খুব বেশি বৈচিত্র আনতে পছন্দ করেন না। তার কথায়, ভ্রমণ কিংবা শুটিংয়ের সময়ও প্রতিদিনের খাবারের রুটিনে খুব একটা পরিবর্তন আসে না।
সকালে তিনি পেটভর্তি সালাদ খান। এতে থাকে চিকেন কিমা এবং মিষ্টি আলু। দুপুরের খাবারে সাধারণত সবজি, ডাল ও রুটি থাকে। ভাত খুব একটা খান না। রাতের খাবার রাখেন তুলনামূলক হালকা।
গ্রিলড চিকেন ও সবজি তার রাতের খাবারের তালিকায় থাকে। আগে দিনে ছয়বার অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও বর্তমানে তিন থেকে চারবার খাবার খান বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও পরিমিত ফ্যাটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার চেষ্টা করেন।
চিনি ও গ্লুটেন এড়িয়ে চলেন
ইমরানের খাদ্যতালিকায় চিনি নেই বললেই চলে। গ্লুটেনে অ্যালার্জি থাকার কারণে গমজাত খাবারও এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলও নিয়মিত খান না বলে তাঁর খাদ্যাভ্যাসের বর্ণনায় উঠে এসেছে। তবে আমের মৌসুমে মাঝেমধ্যে আম খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন না।
এখানে মনে রাখা জরুরি, ইমরানের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসকে সবার জন্য আদর্শ ডায়েট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে কোনো খাবার বাদ দেওয়ার আগে নিজের পুষ্টির প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কঠোর নিয়মের মাঝেও পছন্দের খাবার
কঠোর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললেও ইমরান সব ধরনের পছন্দের খাবার একেবারে বাদ দেন না। সুশি, থাই খাবার ও কাঁকড়া তার পছন্দের খাবার। এমনকি কখনো কখনো চিনি ছাড়া তিরামিসু ও রসমালাইও খান।
অর্থাৎ তার খাদ্যাভ্যাসে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার বদলে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পছন্দের খাবার মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার সুযোগ রাখাও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
সপ্তাহে ছয় দিন শরীরচর্চা
খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাকেও গুরুত্ব দেন ইমরান। তার রুটিন অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন মিক্সড মার্শাল আর্ট এবং চার দিন ওয়েট ট্রেনিং করেন। এর সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাসও রয়েছে।
আরও পড়ুন
একসঙ্গে খাওয়া নিয়ে ঝামেলা, কেন ‘ফুড ডিভোর্স’ বেছে নেবেন
তবে অভিনেতার এই রুটিন হুবহু অনুসরণ করা প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক মানুষের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন আলাদা। তাই ফিটনেস শুরু করার ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে এগোনো এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন
হট লুকে ধরা দিলেন জায়েদ খান
ইমরান হাশমির ফিটনেস রুটিনে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। নিয়মিত নিজের জন্য কার্যকর একটি রুটিনই তাকে দীর্ঘদিন ফিট থাকতে সাহায্য করে।
সূত্র: নিউজ এইটটিন, ইন্ডিয়া টুডে
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন