বিজ্ঞাপন
ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা না দিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা আলি আবদোল্লাহি বুধবার (১৯ আগস্ট) সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যেকোনো ধরনের সহায়তা বা সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও সেই অভিযানে অংশ নেওয়ার সমান বলে বিবেচিত হবে।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহরকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা বা সামরিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হলে সেটিকে মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি সংঘাত কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালী এখনো উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিকাংশ বন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।
ইরান কয়েক মাস ধরে প্রণালিটি অবরোধ করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এর মধ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার আমিরাত অভিযোগ করে, ইরান তাদের উপকূলের কাছে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
পরে আবুধাবি জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মূলত সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। দুটিই সাগরে পড়ে যায়। এর একটি আমিরাতের আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে পড়েছে বলে জানানো হয়।
তবে ইরান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের দাবি ‘সম্পূর্ণভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেন।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ আমিরাতের
জাহাজে হামলার অভিযোগের পর মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় আমিরাত।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
ইরান ও আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আমিরাতে বড় একটি ইরানি জনগোষ্ঠীও বসবাস করে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে আমিরাতের নেওয়া এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ। এর আগে দেশটি ইরান থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্কুল ও হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়।
উপসাগরীয় ঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি
উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশেই মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন আছে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তা আবদোল্লাহি দাবি করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, কীভাবে দেশগুলোর অজান্তে অবস্থান করতে পারে—তা বিশ্বাস করা কঠিন।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জানা উচিত যে ইরান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এর আগে জানিয়েছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। তবে ইরান সেই আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান অনেকটাই কমিয়ে দিলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প ও পেন্টাগন এ ধরনের দাবির বিরোধিতা করেছে।
এদিকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS George Washington মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এটি সেখানে থাকা USS Abraham Lincoln-এর দায়িত্ব নেবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম
বিজ্ঞাপন