জাতীয়

১৫ বছরের বন্ধুত্ব-থেকেছেনও একসঙ্গে, ১৫০০ টাকার জন্য খুন করলেন বন্ধুকে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
খুলনার কামরুল খান ও আল-আমিনের বন্ধুত্ব প্রায় ১৫ বছরের। একই সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন তারা, থেকেছেনও একই বাসায়। এরপরও মাত্র দেড় হাজার টাকার জন্য ১৫ বছরের বন্ধুত্ব ভুলে যান আল-আমিন। ছুরি দিয়ে বন্ধুর গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভারতে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি তার। খুলনা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (১৯ আগস্ট) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে এক বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে। আরও পড়ুন ‘আপনার লাশ বিলের পানিতে ভাসিয়ে দেব’ ভূমি কর্মকর্তাকে সেবাগ্রহীতা খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. কামরুল খান। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত গ্রামের মৃত করিম খানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। একই দিন পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন। পিবিআই খুলনা জেলার সহযোগিতায় ১৭ আগস্ট তেরখাদা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, গ্রেফতার আল-আমিনের কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের বাথরুমের প্যানের ভেতর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, নিহত কামরুল ও আল-আমিন দুজনই খুলনার তেরখাদা এলাকার বাসিন্দা। তাদের বন্ধুত্ব প্রায় ১৫ বছর ধরে। একই সঙ্গে কাজ‌ও করতেন তারা, থেকেছেনও একই বাসায়। গত ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। আরও পড়ুন কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত ১৪ আগস্ট রাতে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয়। পরে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি বাথরুমের প্যানে ফেলে কক্ষে তালা লাগিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান আল-আমিন। কক্ষ ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ না করায় প্রাথমিকভাবে নিহত ও সম্ভাব্য আসামি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই নিহতের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা। টিটি/কেএসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>