বিজ্ঞাপন
নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন কোম্পানির ব্যানারে চলাচলরত অননুমোদিত স্লিপার বাস ও খেলাপি মোটরযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) অনুমতি ব্যতীত মোটরযানের কারিগরি বিনির্দেশ ব্যত্যয় এবং ফিটনেস সনদবিহীন মোটরযান সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় একলাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ খান।
তিনি জানান, বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি বিনির্দেশের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো মোটরযানের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আসন বিন্যাস, প্রকৃতি ও অবস্থা ইত্যাদি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অননুমোদিত স্লিপার বাসসহ অন্যান্য মোটরযান আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আকৃতি ও প্রকৃতি পরিবর্তন করে, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক, মহাসড়কে চলাচল করছে; যা সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আরও জানান, এমতাবস্থায় সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত অননুমোদিত স্লিপার বাসসহ অন্যান্য খেলাপি মোটরযানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সারা দেশে চিঠি দিয়েছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সেই চিঠির আলোকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এফ এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার, বিআরটিএ কক্সবাজার ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লন্ডন এক্সপ্রেস, দোয়েল এক্সপ্রেস, সেন্টমার্টিন পরিবহন ও ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস নামে পাঁচটি বিলাসবহুল বাসের বিরুদ্ধে বিআরটিএর অনুমতি ব্যতীত মোটরযানের কারিগরি বিনির্দেশ ব্যত্যয় ও ফিটনেস সনদবিহীন মোটরযান সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়। তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।
অপরদিকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও পরিচালক (ইঞ্জি.) এর তত্ত্বাবধানে বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্যে কক্সবাজার পৌরসভার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা সভা করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষকের সমন্বয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জানে আলম, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ ইউছুফ এবং হাশেমিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ রহমত সালাম।
আলোচনায় বক্তারা, শিক্ষার্থীরা কীভাবে রাস্তা পারাপার হবে, যাত্রী ও চালক এবং পথচারী হিসেবে স্ব স্ব ব্যক্তির করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি কীভাবে সড়ক নিরাপদ করে দুর্ঘটনা হ্রাস করা যায় সে বিষয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়। আলোচনা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া নিরাপদ সড়ক ও করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসপেক্টাস, ট্রাফিক সাইন সম্পর্কিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন