ব্রেকিং নিউজ
খুলনায় ওয়ার্ড বিএনপি অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ‘চোখের পানি মুছে আবার স্বজনদের খুঁজছি’ যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার কারওয়ান বাজারে বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন Aaryavir Sehwag: বাবার মতোই বিধ্বংসী ব্যাটার, সুযোগ ভারতীয় দলে, বিচ্ছেদ-জল্পনার মাঝে কী বললেন মা আরতি সহবাগ? ঘুস নেওয়ার দায়ে এসিল্যান্ড অফিসের খারিজ সহকারী বরখাস্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কিনছে ভারত, কীভাবে কাজ করে এই অস্ত্র তিব্বতে ঢোকার ঠিক আগমুহূর্তে ছিলেন শুভশ্রী, এরপরই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ৪ দিনে ৯৪ লাখ ভিউ! সমুদ্র আর বন্ধুত্বের গল্পে মজেছেন দর্শক পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
জাতীয়

মিলনায়তন সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ছে নেত্রকোনার সংস্কৃতিচর্চা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একসময় নেত্রকোনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল প্রাণচঞ্চল। নিয়মিত নাটক, গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্য সভায় মুখর থাকত শহর। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নিতেন এসব আয়োজনে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। উপযুক্ত মিলনায়তনের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা। ৬৬ বছর আগে নির্মিত জরাজীর্ণ জেলা পাবলিক হলই এখন জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বড় ভরসা। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উপযোগী আধুনিক মিলনায়তনের অভাব। জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিরও নিজস্ব মিলনায়তন নেই। ফলে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর একমাত্র ভরসা শহরের পুরোনো জেলা পাবলিক হল। আধা পাকা ও বহুবছরের পুরাতন জরাজীর্ণ এ ভবনে নেই কোনো আধুনিক কোনো সুযোগ-সুবিধা। এর ওপর প্রতিটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়। এতে সীমিত সামর্থ্যের অনেক সংগঠন নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে সরে আসছে। ঐতিহ্য আছে, অবকাঠামো নেই লোকসংস্কৃতির তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। ১৯৩২ সালে শান্তিনিকেতনের বাইরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম জন্মদিন উদযাপন করা হয় এই জেলায়। আবার ১৯৬৯ সালে ঢাকার বাইরে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রথম শাখাও গড়ে ওঠে নেত্রকোনায়। বর্তমানে জেলায় নাটক, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির চর্চা এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সংগঠনের সংখ্যা ২০টির বেশি। যাত্রা ও নাট্যচর্চাতেও রয়েছে জেলার আলাদা পরিচিতি। শহরের রেলক্রসিং এলাকায় প্রিন্সেস বিউটি সাজঘর, আনোয়ারা সাজঘর এবং বারহাট্টার কংশ থিয়েটারসহ কয়েকটি অপেরা এখনো যাত্রাচর্চা করছে। নাট্যচর্চায় যুক্ত রয়েছে উদীচী, প্রত্যাশা, কচিকাঁচা থিয়েটার, সৎসঙ্গ থিয়েটার, রংধনু ও নবনাট্য পরিষদ। এ ছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হায়দার-শেলী স্মৃতি সংগীত বিদ্যালয়, রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ঝংকার, অগ্রান, তৃণযোগ, নেত্রকোনা বাউল সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চা করছে। তরুণ শিল্পীদের কয়েকটি ব্যান্ডও রয়েছে। তবে এসব সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। নেত্রকোনা শহরে এখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো বড় স্থান বলতে জেলা পাবলিক হলই প্রধান ভরসা। ১৯৬০ সালে নির্মিত জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন আধা পাকা ভবনটির ধারণক্ষমতা চার শতাধিক। তবে দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ভবনে আধুনিক মিলনায়তনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও পর্যাপ্ত নয়। পর্যাপ্ত চেয়ার, ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা নেই। নেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণের সুবিধা। পুরুষ ও নারী শিল্পীদের জন্য আলাদা প্রসাধনকক্ষও নেই। ছোট একটি মঞ্চেই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়। এর ওপর প্রতিটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়। সীমিত সামর্থ্যের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য এই ব্যয়ও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক সংগঠন নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী ও সংস্কৃতিকর্মী এনামূল হক পলাশ বলেন, লোকসংস্কৃতির তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার মতো একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নেই, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জরাজীর্ণ পাবলিক হল থাকলেও ভাড়া বেশি হওয়ায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সেখানে নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে পারে না। এতে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ১৪ বছর ধরে নেই মিলনায়তন একসময় নেত্রকোনার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল ‘মহুয়া অডিটোরিয়াম’। শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির পাশে পৌরসভার জায়গায় ১৯৭৯ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এটি নির্মাণ করে। পরবর্তী সময়ে জায়গাটির মালিকানা নিয়ে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়। পরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একপর্যায়ে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। প্রায় ১৫ বছর আগে সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় ছয় বছর আগে ভবনটি ভেঙে ফেলে পৌরসভা। কিন্তু ভবনটি ভেঙে ফেলার পর সেখানে নতুন কোনো মিলনায়তন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক একটি সাংস্কৃতিক ভেন্যু ছাড়াই চলছে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এছাড়া জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হলেও এর নিজস্ব কোনো অডিটোরিয়াম নেই। ফলে নাটক, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, আবৃত্তি কিংবা সাহিত্য আয়োজন করতে হলে সংগঠনগুলোকে বিকল্প স্থান খুঁজতে হয়। শহরে উপযুক্ত বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের নির্ভর করতে হয় জেলা পাবলিক হলের ওপর। কিন্তু পুরোনো অবকাঠামো, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও ভাড়ার কারণে সেখানেও নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, একটি জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু সংগঠন ও শিল্পীদের ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, প্রদর্শনী ও পরিবেশনার উপযুক্ত অবকাঠামো। সেই অবকাঠামোর অভাবেই নেত্রকোনার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধীরে ধীরে সংকটে পড়ছে। দাবি উঠেছে বহুদিন, অগ্রগতি কম আধুনিক মিলনায়তনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকেরা মানববন্ধন, স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন সময়ে আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক বলেন, জেলায় একটি আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সরকার প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি মিলনায়তন নির্মাণের সিদ্বান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনার নামও রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন আমরা করতে পারবো। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, মোক্তারপাড়ায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি-সংলগ্ন জায়গায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জায়গার বিষয়টি সমাধানের কাজ চলছে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। এইচ এম কামাল/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>