বিজ্ঞাপন
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ক্যান্টিন। ফলে খাবার ও নাশতার জন্য প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিন চালুর দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ ও দুর্ভোগ বাড়ছে তাদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিন চালু না থাকলেও বিষয়টি সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে মেডিকেল কলেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খাবারের জন্যও ক্যাম্পাসের বাইরে নির্ভর করতে হচ্ছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ৪৭৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের বড় একটি অংশ কলেজের আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন। এছাড়া কলেজে রয়েছেন ১২৩ জন শিক্ষক। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিয়মিত ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ক্যান্টিন চালু নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ চালুর পরপরই ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া চালু করা হয়। ক্যান্টিনটির মাসিক ভাড়া হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হতো ৪৫ হাজার ৯ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিনটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের খাবারের সুবিধা যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনি সরকারি রাজস্ব আদায়েও এর প্রভাব পড়ছে।
ক্যান্টিনটি কেন দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ফলে ক্যান্টিন বন্ধের কারণ ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
দেশি মাছের ভান্ডারে হাহাকার
এদিকে ক্যান্টিন বন্ধ থাকার সুযোগে কলেজ ক্যাম্পাসে বিকল্পভাবে খাবারের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে কলেজের পরিসংখ্যানবিদ শহিদুল ইসলাম ও স্টোর কিপার সফিকুলের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের পরিসংখ্যানবিদ শহিদুল ইসলাম ও স্টোর কিপার সফিকুল ইসলাম ক্যান্টিন বন্ধ থাকার সময়ে খাবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যান্টিন বন্ধের পর ক্যাম্পাসে খাবারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়ায় একটি অনানুষ্ঠানিক খাবারের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এতে ক্যান্টিন বন্ধ থাকার বিষয়টি আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুর আলম রাফাত বলেন, আমাদের ক্যান্টিন বন্ধ রয়েছে প্রায় দেড় বছর। এতে আমাদের নানা রকম সমস্যা যেমন সকালের নাস্তাটা আমরা ঠিকমতো খেতে পারি না। এত দূরে গিয়ে খাবার খেতে গেলে ক্লাস ধরতে পারি না। আবার খাবারের গুণগত মান এবং ভালো মন্দের একটি বিষয় আছে। মেয়েদের সেফটির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ক্যান্টিনটি চালু হলে আমাদের অনেক সুবিধা হবে।
তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ফাহাদ বলেন, আমাদের নিয়মিত খাবারের সমস্যা হচ্ছে। খাবারের দোকানগুলো অনেক দূরে। নোই সব দোকানে খেয়ে আসতে যে সময় লাগে। স্বাস্থ্যকর খাবার আমরা পাচ্ছি না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে দূরে গিয়ে খেতে হচ্ছে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। ক্যান্টিনটি খোলা থাকলে আমাদের এত সময় নষ্ট হতো না। ক্যান্টিন থেকে খাবার খেয়ে আবার ক্লাসে যোগ দিতে পারতাম।
চতুর্থ বর্ষের তাসজিদ মেহরাব স্বপ্নীল বলেন, ক্যান্টিন চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে কলেজ থেকে। চালু হলে আমাদের আর কষ্ট করে হাসপাতাল ক্যান্টিন অথবা বাহিরে গিয়ে খেতে হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কয়েকজন সিনিয়ররা আগের অধ্যক্ষের কাছে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। এরপর ক্যান্টিনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কলেজের দুই কলেজে কর্মকর্তা খাবারের ব্যবসা শুরু করেন।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের পরিসংখ্যানবিদ শহিদুল ইসলাম তাদের ব্যবসার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো ব্যবসা করি না। আমাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটা চুক্তি হয়েছে। আমরা বাজার করে দিবো এরপর মাস শেষে আমাদের একটা কমিশন দেবে।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের স্টোর কিপার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো ব্যবসা করি না। আর এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমি যোগদান করেছি মাত্র ৩/৪ দিন। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. সজল আলী/এনএইচআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন