জাতীয়

ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু: ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটি, সমুদ্রের ফাইবার ক্যাবল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়ালে ইউরোপে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানি হামলার কবলে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে ইরানের বিবেচনায় থাকা আরেকটি বিষয় হচ্ছে-হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে থাকা ফাইবার-অপটিক ক্যাবল।  চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিভিন্ন সম্ভাবনা ইরান বিবেচনা করছে বলে বুধবার (১৯ আগস্ট) সংবাদ প্রকাশ করছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে সংবাদপত্রটি জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করছে ইরানি বাহিনী ইরানের বিবেচনায় থাকা দেশের মধ্যে বুলগেরিয়াও রয়েছে। গত মাসে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বা রিফুয়েলিং বিমানকে নিজেদের বেজম বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল বুলগেরিয়া। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোয় হামলার বিষয়ে আগে দেওয়া হুমকি বাস্তবায়ন করেন তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন বিকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি সীমা অতিক্রম করে, তাহলে ইরান যে কোনো মূল্যে আত্মরক্ষা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ছাড়িয়ে ইউরোপেও হামলা চালাবে। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় সাইপ্রাসও রয়েছে। গত মার্চে সাইপ্রাসে থাকা যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে সাইপ্রাসকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে থাকা ফাইবার-অপটিক যোগাযোগের কেবলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যোগাযোগ খাতে হামলার সম্ভাবনা নিয়েও আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেছে ইরানি বাহিনী। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় আছে। পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনাও কমে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা চলছে না এবং নির্ধারিতও নেই। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা এর আগেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর জন্য যে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহৃত হবে সেই ঘাঁটিকেই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনটিতে সামরিক বিশেষজ্ঞদেরও উদ্ধৃত করা হয়েছে। তারা বলেছেন, ইরানের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যেগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশে পৌঁছাতে সক্ষম। তবে, দীর্ঘ দূরত্বে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা কমে যেতে পারে। উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে দুই পক্ষ। তবে, হরমুজের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আবার যুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। নতুন দফা হামলায় ৫৯ জন ইরানি নিহত হয়। ইরানের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন। কেএম 
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>