জাতীয়

‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসায়’ বঞ্চিত ৪ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ কবে?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
২০১৩ সালে একযোগে দেশের ২২ হাজার ৩৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এতে বিদ্যালয়গুলো ‌‌‌‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ রূপ পায়। ওই সময়ে যাচাই-বাছাইয়ে সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয় ৪ হাজার ১৫৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরকার পরিবর্তনের পর এখন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করার দাবি জানাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এ দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মিজ শাহীনা ফেরদৌসীকে এ স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’। স্মারকলিপিতে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া ৪ হাজার ১৫৯ বিদ্যালয়কে দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা ও ২০২৩ সালের নিবন্ধন নীতিমালার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়। আরও পড়ুন মাদরাসা শিক্ষকদের বদলির আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ৩ নির্দেশনা সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশীদ খোকন, মহাসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নেছার উদ্দিন নাছিরের সই করা স্মারকলিপি অধিদপ্তর গ্রহণ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর সূত্র। স্মারকলিপিতে শিক্ষক সমিতির নেতারা উল্লেখ করেছেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৭ মের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত, জমি দলিলকৃত ও পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা স্কুলগুলো জাতীয়করণের যোগ্য ছিল। সারাদেশে প্রায় ৩১ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্যে জেলা ও উপজেলাপর্যায় থেকে ২৬ হাজার ১৯৩ বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হলে সেগুলোকে সরকারি করা হয়। এতে আরও বলা হয, ‘তবে যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়। এসব বিদ্যালয়ের জমি (৩৩ শতাংশ) এরই মধ্যে সরকারের নামে নামজারি করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলো নিজস্ব কোডে (ধরন কোড ০৩) প্রাথমিক সমাপনী ও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। অথচ ২০২৩ সালের নতুন নিবন্ধন নীতিমালায় ধরন কোড ০৩-এর অন্তর্ভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই।’ আরও পড়ুন এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের ফল হতে পারে ১০ সেপ্টেম্বর স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘তা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কিছু উপজেলা শিক্ষা অফিসার এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নতুন করে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিবন্ধনের জটিলতা থেকে বাইরে রেখে জাতীয়করণের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত খাজনা-রাজস্ব প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হলো।’ যে কারণে বঞ্চিত চার হাজার বিদ্যালয় যাচাই-বাছাইয়ে সব ঠিক থাকলেও রাজনৈতিক কিছু কারণে ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা বিএনপি বা জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত থাকায়; কোনো বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভিন্ন মতাদর্শের কারণে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার সময় চার হাজারের বেশি বিদ্যালয় বাদ পড়ে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর যা বলছে চার হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অধিদপ্তরে আলোচনা চলছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে এ নিয়ে কমিটি হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলো সরেজিমন পরিদর্শন ও শিক্ষাকার্যক্রম পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করা হতে পারে। জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মিজ শাহীনা ফেরদৌসী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। জাতীয়করণের আওতায় না আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এএএইচ/কেএসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>