ব্রেকিং নিউজ
ভারতকে জ্বালানি ও সার সরবরাহের আশ্বাস রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার তাগিদ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাদবপুরে এবিভিপির তাণ্ডবের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল ও পাল্টা মিছিল তারেক মাসুদের চলচ্চিত্রে বাঙালি মুসলমানের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিফলন আছে: সলিমুল্লাহ খান ইরানকে একঘরে করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের লাইনে গ্যাস নেই, বৈদ্যুতিক চুলা কিনেও লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততায় নিষেধাজ্ঞা দিনাজপুরে সরকারি গুদাম থেকে ২২৭ টন সার বিক্রির অভিযোগ, আটক ১ ১১ দলের লংমার্চ ঘিরে কোনো আশঙ্কা নেই, অনুমতির প্রশ্ন নেই: গোলাম পরওয়ার ‘আপত্তিকর পোশাকে’ রাখিবন্ধনের বিজ্ঞপন, তুমুল বিতর্কে কৃতি
জাতীয়

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়কের একটাই আক্ষেপ ‘কেউ খোঁজ নেয় না’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রজনী কান্ত বর্মন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল তার পায়ের জাদুতে, সেই সময় দক্ষিণ এশিয়ার সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন রজনী। এছাড়াও ১৯৯৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ান হয় বাংলাদেশ, ওই দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। দাপুটে এ খেলোয়াড় জাতীয় দলে ৫৩টি ম্যাচসহ খেলেছেন দেশের বিভিন্ন ক্লাবে, দেশের জন্য এনেছেন সফলতাও। কিন্তু আজ সেই রজনীর দু’চোখে শুধুই অন্ধকার। সম্প্রতি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পিঙ্গাবহ গ্রামে গিয়ে কথা হয় রজনীর সঙ্গে। ওই গ্রামের রাধা কান্ত বর্মনের ছেলে রজনী কান্ত বর্মন। বর্তমানে এ গ্রামেই বসবাস তার। দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ার পর কারো সাহায্য ছাড়া চলতে পারেন না তিনি। সেই পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছেন। এমন দুঃসময়ে কাউকে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়ছেন তিনি। সাবেক ফুটবলার রজনী জানান, বছর কয়েক আগে ভারতের হুগলীতে বেড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। সেসময় তার পায়ের ওপর দিয়ে একটি প্রাইভেটকার চলে যায়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকরা প্রথমে পা কেটে ফেলার কথা বললেও পরে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার করে পা রক্ষা করেন। পুরোপুরি পঙ্গু না হলেও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছেন না রজনী। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছেন তিনি, কবে ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে তারও নিশ্চয়তা নেই। চিকিৎসার জন্য ফুটবল খেলে গড়া নিজের শেষ সম্পদ বিক্রি করেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। তবে এমন বিপদের দিনে সাফজয়ী ফুটবলারের পাশে নেই ফুটবল অঙ্গনের কেউই। গ্রামের মাঠ থেকে বেড়ে ওঠা রজনী। একসময় কাঁপিয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মাঠ। তখন বাড়িতে এলে কত মানুষজন আসতো তাকে এক নজর দেখতে। সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনি একাকী নিঃস্ব। আজ সেই রজনীর দিন কাটে বাড়ির সামনের বৈঠকখানায় একাকী বসে। রজনী কান্ত বর্মন বলেন, এখনো ডান পা প্রায়ই অচল। কারো সাহায্য ছাড়া চলতে কষ্ট হয়। সহায় সম্বল সবই বিক্রি করে চিকিৎসা খরচ পরিচালনা করেছি। এখন শুধু ভিটেমাটি আঁকড়ে আছি। ভবিষ্যতে নিয়তি কোন পথে নিয়ে যায় সে নিয়েই ভাবনা। ভারতে চিকিৎসা করে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অর্থের অভাবে আগামীর চিকিৎসাও এখন অনিশ্চিত। তিনি জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে ফিরে আসেন গাজীপুরের ফুলবাড়িয়ার বাড়িতে। তার স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে মারা যান ভারতে। নিজের অসুস্থতার জন্য স্ত্রীকে বিদায় জানাতে ভারতেও যেতে পারেননি। অভাবের সংসারে রজনীর দুই মেয়েই এখন ভারতের নানা বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করছেন। সংসারের বড় ছেলে হিসেবে রজনীর কাঁধে মা, ভাই ও বোনদের দেখভালের দায়িত্ব। বিশাল সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অবসরের পর একে একে তার সম্পদ বিক্রি করে এখন প্রায় নিঃস্ব হওয়ার পথে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হয়েও অসুস্থ হয়ে এক বছর ধরে বিছানায় পড়ে রয়েছি। কেউ খোঁজ নেয়নি, একদিনের জন্যও ফুটবল ফেডারেশন থেকে ফোন করে একটু সান্ত্বনা মেলেনি। এটাতেই এখন পীড়া দেয় নিজের মনে। দেশের গৌরবের জন্য খেলার মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও আজ পাশে কেউ নেই। নিজের অসহায়ত্বের জন্য সরকার বা ফুটবল ফেডারেশনকে পাশে চান এক সময়ের এই মেধাবী খেলোয়াড়। এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বশীল কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, রজনী কান্ত বর্মনের অসহায়ত্বের বিষয়টি আমাদের কেউ জানাননি। তিনি অথবা তার কোনো প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার সমস্যা শুনে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একই কথা জানালেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভুইয়া। তিনি বলেন, সাবেক ফুটবলার রজনী কান্তের বর্তমান অবস্থা আমাদের জানা নেই। তিনি যদি যোগাযোগ করেন তাহলে আমরা তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়াও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। শিহাব খান/এফএ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>