জাতীয়

রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন রক্ষায় আলীর (রা.) অনন্য সাহসিকতার গল্প

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইলিয়াস মশহুদ মক্কায় দীর্ঘ তেরো বছর দাওয়াত, নির্যাতন ও নিপীড়নের পর আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মাদকে (সা.) মদিনায় হিজরতের অনুমতি দেন। কিন্তু এই হিজরত ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মুশরিক নেতারা উপলব্ধি করেছিল, মুহাম্মাদ (সা.) যদি মদিনায় পৌঁছে যান, তাহলে ইসলামের শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই তারা যে কোনো মূল্যে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। দারুন-নদওয়ার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র মুশরিক নেতারা দারুন-নদওয়ায় এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, প্রত্যেক প্রধান গোত্র থেকে একজন করে শক্তিশালী যুবক নির্বাচিত হবে। তারা সবাই একযোগে রাসুলুল্লাহর (সা.) ওপর আক্রমণ করবে। এতে হত্যার দায় সব গোত্রের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে এবং বনু হাশিম কোনো একটি গোত্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারবে না। এভাবেই তারা ইসলামের আলো নিভিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। (ফাজায়েলুস সাহাবা: ১১৬৮) কিন্তু মানুষের পরিকল্পনার ঊর্ধ্বে ছিল আল্লাহর পরিকল্পনা। আল্লাহ তাআলা জিবরাইলের (আ.) মাধ্যমে নবীজিকে (সা.) এই ষড়যন্ত্রের সংবাদ জানিয়ে দেন এবং হিজরতের নির্দেশ প্রদান করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যা শত্রুদের বিভ্রান্ত করে দেবে এবং তাঁকে নিরাপদে মক্কা ত্যাগের সুযোগ করে দেবে। (আল-হিকমাতু ফিদ্-দাওয়াতি ইলাল্লাহ, পৃ. ২৩৫, আত-তাবাকাতুল কুবরা: ৩/১০) আলীর (রা.) অনন্য সাহসিকতা রাসুলুল্লাহ (সা.) আলী ইবনে আবি তালিবকে (রা.) ডেকে বললেন, তিনি যেন রাসুলের (সা.) সবুজ চাদর গায়ে দিয়ে তাঁর বিছানায় শুয়ে থাকেন। সেই বিপদসঙ্কুল মুহূর্তে যখন শত্রুরা রাসুলকে (সা.) প্রাণে মেরে ফেলতে বাড়ির চারদিকে ঘেরাও করে রেখেছে, তখন তাঁর বিছানায় শুয়ে থাকার অর্থ ছিল যে কোনো মুহূর্তে হামলার শিকার হওয়া, এমন কি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আলী (রা.) বিনা দ্বিধায় রাসুলের (সা.) নির্দেশ পালনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। (আল-হিকমাতু ফিদদাওয়াতি ইলাল্লাহ, আল-কাহতানি: ২৩৫) অন্য বর্ণনায় এসেছে; রাসুল (সা.) আলীকে বলেন, আলী, তুমি চাদরমুড়ি দিয়ে আমার বিছানায় শুয়ে পড়ো। কাফিরদের কেউ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (ফাতহুল বারি: ৭/২৩৬, সিরাতে ইবনে হিশাম: ২/৯১) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হিজরতের রাতে আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) রাসুলুল্লাহর (সা.) বিছানায় চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিলেন এবং নিজের জীবন আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তখন তাঁর ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজের জীবন বিক্রি করে দেয়। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। (সুরা বাকারা: ২০৭, সিরাতে ইবনে হিশাম: ২/৯১, ফতহুল বারি: ৭/২৩৬) আলী (রা.) খুব ভালো করেই জানতেন, ঘরের চারপাশে সশস্ত্র কোরায়শ যুবকরা ওঁত পেতে আছে। যে কোনো মুহূর্তে তারা ঘরে ঢুকে তরবারির আঘাতে বিছানায় শুয়ে থাকা ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারে। কিন্তু আলীর (রা.) কাছে নিজের প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছিল আল্লাহর রাসুলের (সা.) নিরাপত্তা। তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে রাসুলুল্লাহর (সা.) নির্দেশ পালন করেন। তার এই আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে সাহস, আনুগত্য ও ইমানের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। (ফতহুল বারি: ৭/২৩৬, তারিখুত তাবারি: ২/৩৭৪) মুশরিকদের বিস্ময় সারা রাত মুশরিকরা নবীজির (সা.) ঘর ঘিরে পাহারা দিতে থাকে। তারা মনে করেছিল, ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একযোগে আক্রমণ চালাবে। কিন্তু সকাল হলে তারা যখন ঘরে প্রবেশ করে, তখন বিস্ময়ের সঙ্গে দেখে বিছানায় শুয়ে আছেন আলী (রা.)। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন করে, মুহাম্মাদ কোথায়? আলী (রা.) দৃঢ়তার সঙ্গে উত্তর দেন, সে কথা আমার চেয়ে তোমরাই তো ভালো জানো। তাঁর এই জবাবে কোরায়শরা বুঝতে পারে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতোমধ্যে নিরাপদে মক্কা ত্যাগ করেছেন। ক্ষোভে তারা আলীকে (রা.) প্রহার করে এবং কিছু সময় আটক রাখলেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায় করতে পারেনি। (খুলাফাউর রাসুল: পৃ. ৩৯৬; আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ: পৃ. ৩৪৫) আমানতের হেফাজত নবীজি (সা.) আলীকে (রা.) আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দিয়েছিলেন, সেটা হলো তার কাছে গচ্ছিত মানুষের আমানত তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মক্কার অনেকেই নিজেদের মূল্যবান সম্পদ নবীজির (সা.) কাছে আমানত রাখত। যেহেতু তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। হিজরতের সময় নবীজি আলীকে (রা.) নির্দেশ দেন, যেন সবার আমানত যথাযথভাবে তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আলী (রা.) কয়েক দিন মক্কায় অবস্থান করে অলিগলি ও বাজারে গিয়ে সবার আমানত ফিরিয়ে দেন। তারপরই তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। (তারিখুত তাবারি: ২/৩৮২, আত-তাবাকাতুল কুবরা: ৩/১০, ফিকহুস সিরাহ: পৃ. ১৫৩) হিজরত সব দায়িত্ব শেষ করে আলী (রা.) একা মদিনার পথে রওনা হন। তিনি দিনের বেলা আত্মগোপন করতেন এবং রাতের অন্ধকারে পথ চলতেন। তার সঙ্গে কোনো বাহন ছিল না; দীর্ঘ পথ তাঁকে হেঁটেই অতিক্রম করতে হয়। অবিরাম হাঁটার কারণে তাঁর পা ফেটে গিয়েছিল। তবুও তিনি থেমে যাননি। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। অবশেষে তিনি কুবায় পৌঁছে রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে মিলিত হন। (আল-কামিল: ২/১০৬, সিরাতে ইবনে হিশাম: ২/১২৯, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/৩৩৫) ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>