ব্রেকিং নিউজ
ছুটি শেষে কুয়েতে ফিরেছিলেন সাদ্দাম, ২ মাস না যেতেই এলো মৃত্যুর খবর পরিত্যক্ত ঘরে বিকট বিস্ফোরণ, উড়ে গেল টিনের চাল-বেড়া ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা মানুষকে শান্তির পথে পরিচালিত করে’ খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর ফালানী হত্যা মামলায় নতুন তথ্য ‘সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রান্নাঘরে গলায় ফাঁস দেন মা’ এআই দিয়ে এমপির ছবি বিকৃতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কারাগারে রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিপ্লব নাকি অভ্যুত্থান: এলিট তত্ত্বের আলোকে জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি চেয়ারে বসা নিয়ে রাবিতে তুলকালাম, দুই বিভাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ-ভাঙচুর তাকবির-দরুদে মুখর চট্টগ্রাম, ‘জশনে জুলুসে’ মানুষের ঢল
জাতীয়

বঙ্গভবনে সন্ধ্যার সেই মুহূর্ত

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গভবনের চারপাশের চেনা দৃশ্য যেন বদলে যায়। রাষ্ট্রপতির শপথকে ঘিরে দুপুর থেকেই বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তা। বঙ্গভবনের প্রবেশপথ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে ভেতরে চলছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাইরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি, ভেতরে সাজানো দরবার হল—এই দুই আবহের মধ্যেই শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হয় সেই বহুল প্রতীক্ষিত আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর থেকেই বদলে যায় বঙ্গভবনের চিত্র রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে আগে থেকেই ছিল বিশেষ প্রস্তুতি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে এক হাজার ২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কোনো কোনো সূত্রে আমন্ত্রণপত্রের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলা হয়েছে। দরবার হলের আসনসংখ্যাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়েছিল। আরও পড়ুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল   বঙ্গভবনের সামনের অংশ পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখা হয়। প্রবেশপথ এবং আশপাশের স্থাপনাগুলোতেও ছিল বাড়তি পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রস্তুতি। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা বজায় রাখতে পুরো আয়োজনেই ছিল আনুষ্ঠানিকতার ছাপ। অন্যদিকে, অতিথিদের প্রবেশের সময় আমন্ত্রণপত্র যাচাই করা হয়। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা একে একে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। বাইরে কড়া নিরাপত্তা শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বঙ্গভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় দুপুর থেকেই। প্রবেশপথে বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি। আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও ছিল নজরদারি। কিছু সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। ফলে বঙ্গভবনের বাইরের পরিবেশে ছিল এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত ব্যস্ততা—গাড়ির চলাচল, অতিথিদের প্রবেশ, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ছুটে চলা। গাড়িবহর ঢোকার পর বদলে যায় মুহূর্ত সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। এরপর নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দিকে এগিয়ে যায় পুরো আয়োজন। এর আগে জুমার নামাজের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের পর তিনি বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সন্ধ্যায় তিনি প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতির শপথের আনুষ্ঠানিকতায়। দরবার হলে নেমে আসে নীরবতা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। বঙ্গভবনের দরবার হল তখন অতিথিতে পরিপূর্ণ। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শুরু হয় শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর আসে মূল মুহূর্ত—রাষ্ট্রপতির শপথ। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও পড়ুন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন   এই কয়েক মিনিটে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তিনি হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। শপথ গ্রহণের পর শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটি রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে শপথ—অনুষ্ঠানের দৃশ্যপটে এটাই ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। এক অনুষ্ঠানেই দুই শপথ রাষ্ট্রপতির শপথ শেষ হওয়ার পরও বঙ্গভবনের দরবার হলের আনুষ্ঠানিকতা থামেনি। অল্প সময়ের ব্যবধানেই শুরু হয় নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পরপরই চারজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যার বঙ্গভবন শুধু একজন নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের সাক্ষী হয়নি; একই সঙ্গে সরকারের মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসেরও আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আরও পড়ুন রাষ্ট্রপতির শপথ ঘিরে বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার   শপথ নেওয়া নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরি। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির ও শামীম কায়সার লিংকন। আনুষ্ঠানিকতার গাম্ভীর্য নতুন রাষ্ট্রপতির শপথকে কেন্দ্র করে আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং বঙ্গভবনের সাজসজ্জায় তৈরি হয় বিশেষ আবহ। তবে দরবার হলের ভেতরের পরিবেশ ছিল মূলত গম্ভীর ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ। সেখানে রাজনৈতিক স্লোগান বা জনসমাবেশের বদলে গুরুত্ব পেয়েছে সংবিধানসম্মত শপথ, রাষ্ট্রীয় রীতি এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা। একদিকে বাইরে ছিল উৎসবের আবহ, অন্যদিকে ভেতরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব গ্রহণের গাম্ভীর্য—বঙ্গভবনের শুক্রবার সন্ধ্যার পরিবেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য ছিল এটিই। ৩৫ বছর পর নির্বাচন মির্জা ফখরুলের শপথের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পরই শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল। ফলে বঙ্গভবনের এই অনুষ্ঠান কেবল সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান নয়; দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায়ও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ঐতিহাসিক আয়োজনের সমাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ এবং এরপর ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ—দুই পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে বঙ্গভবন ছাড়তে শুরু করেন অতিথিরা। কিছু সময় আগেও যেখানে ছিল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার ব্যস্ততা, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ফিরে আসে স্বাভাবিক নীরবতা। তবে শুক্রবারের সেই সন্ধ্যার রাজনৈতিক তাৎপর্য থেকে যায়। দুপুরের কড়া নিরাপত্তা থেকে সন্ধ্যার অতিথি সমাগম, দরবার হলের নিস্তব্ধ শপথ, তারপর একে একে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ—সব মিলিয়ে ২১ আগস্টের বঙ্গভবন ছিল একই সঙ্গে উৎসবমুখর, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীরভাবে রাষ্ট্রীয় এক সন্ধ্যার সাক্ষী। কেএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>