ব্রেকিং নিউজ
ছায়া প্রধানমন্ত্রীর একটা গরম আছে না: রাশেদ খাঁন অনলাইনে ব্যবহারকারীদের হয়ে বিভিন্ন কাজ করে দেবে চ্যাটজিপিটি   সরকারের ছয় মাস: উচ্চশিক্ষায় যেসব পরিবর্তন প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি করল ড্রিপ ল্যাবের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন বাংলাদেশ-চীনের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব রাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হাসনাতের প্রশ্ন ‘তিনি সফল না ব্যর্থ?’ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে দলনিরপেক্ষ থাকব: রাষ্ট্রপতি নেপালের দুর্যোগে সংসদে শোক, সেনাবাহিনী ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি জাপানের গবেষণাগারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যাত্রা
জাতীয়

নয়াপল্টনের ছোট্ট কক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় তখন কোণঠাসা বিএনপির কাণ্ডারি ছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর তার সঙ্গে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন যখন কারাগারে এবং তার সন্তান বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন ঠিক তখন প্রায় প্রতিদিনই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা যেত রুহুল কবির রিজভীকে। যে কোনো সংকটে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হতেন তিনি। টানা ১৫ বছর দেশ ও দলের প্রয়োজনে কথা বলেছেন এই মানুষটি। আর সেকারণে রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় খুশি তার নিজ এলাকার মানুষ ও সমর্থকরা।  দেশে রাজনৈতিক সংকট যত গভীর হয়েছে, বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে ততই দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় বেড়েছে শেখ হাসিনার সরকার থাকাকালীন। আর সে সময় জেল-জুলুমের তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন রুহুল কবির রিজভী। অনেকে সে সময় তাকে নিয়ে ঠাট্টা করলেও এই বর্ষীয়ান নেতা জানতেন একদিন না একদিন সুদিন ফিরবে। আবার ঘুরে দাঁড়াবে তার দল বিএনপি। কুড়িগ্রামের মাটি থেকে রাজনীতির পথে রুহুল কবির রিজভীর শিকড় কুড়িগ্রামে। জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে তার উত্থান কোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সূত্রে বা প্রশাসনিক পদ থেকে নয়। ছাত্রজীবনেই তার রাজনীতির হাতেখড়ি। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর তিনি বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। পরে যোগ দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, পরে সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। রুহুল কবির রিজভী ছিলেন রাকসু ভিপি রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় আসে ১৯৮৯ সালে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি বা ভিপি নির্বাচিত হন। তখন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দেশ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও হয়ে উঠেছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই সময়ের রাজপথের সক্রিয় ছাত্রনেতা রিজভীর রাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়া ছিল জাতীয় রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ উত্থানের ভিত্তি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের পর রিজভী উঠে আসেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। একপর্যায়ে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতি পেরিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হয়ে ওঠে রিজভীর সবচেয়ে পরিচিত কর্মক্ষেত্র। অফিস নয়, যেন দ্বিতীয় বাড়ি সাধারণত একজন রাজনৈতিক নেতা দলীয় কার্যালয়ে আসেন, বৈঠক করেন, সংবাদ সম্মেলন করেন এবং পরে বাড়ি ফিরে যান। রিজভীর ক্ষেত্রে বহু সময় চিত্রটি ছিল ভিন্ন।কার্যালয়ই হয়ে উঠেছিল তার রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় বাড়ি। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব: সাংগঠনিক পথের স্বীকৃতি ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ততদিনে তিনি শুধু ছাত্রদলের সাবেক নেতা নন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। গ্রেফতার ও কারাবরণ রিজভীর রাজনৈতিক জীবন শুধু পদ-পদবির সাফল্যের গল্প নয়। রয়েছে মামলা, গ্রেফতার ও কারাবরণের ইতিহাসও। ২০১২ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৩ সালেও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হন তিনি। ২০১৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আত্মগোপন ও গ্রেফতারের ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে আছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের ঘটনা ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৪০ দিন কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরও তার রাজনৈতিক গতি থামেনি। ফিরেছেন নয়াপল্টনে। আবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আবার কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়েছেন ২০২৬ এসে দায়িত্বের পরিধি বাড়তে থাকে রিজভীর ২০২৬ সালে রিজভীর রাজনৈতিক জীবনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পান। ১৫ আগস্ট তাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তার রাজনৈতিক দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: দীর্ঘ পথের বড় স্বীকৃতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হলে ২০ আগস্ট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের গঠনতন্ত্রের ৭(খ) (৬) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়েছে। কুড়িগ্রামে তার এই দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন। কেএইচ/এসএনআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>