জাতীয়

নিউইয়র্কে এক অচেনা স্মৃতির ভেলা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ভ্রমণ কেবল স্থান পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা নয়, বরং মনের ক্যানভাসে স্মৃতি আঁকার এক অনন্য মাধ্যম। নিউইয়র্কের মতো কর্মব্যস্ত শহরে যখন প্রিয়জনদের সান্নিধ্য এবং প্রকৃতির প্রশান্তি একসঙ্গে মেলে, তখন তা সাধারণ কোনো ঘোরাঘুরি থাকে না- হয়ে ওঠে জীবনকে নতুন চোখে দেখার এক চমৎকার মুহূর্ত। গতকালের পুরো দিনটি ছিল তেমনই এক আনন্দময় ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কোলাজ। দিনের শুরুটা হয়েছিল প্রিয়জনদের মিষ্টি সঙ্গ দিয়ে। রেক্সোনা আপু, খালাম্মা ও কাওসার আপাসহ সবাই মিলে প্রথমে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে পার হই। যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততার মাঝে এই ধীরলয়ের হাঁটা যেন মনকে হালকা করে দিয়েছিল। এর পরপরই আমাদের উবার যাত্রা শুরু হয় রুজভেল্ট আইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। দ্বীপটিতে পৌঁছানোর পর চারপাশের শান্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করে। নদীঘেরা এই দ্বীপে ঘুরে বেড়ানো এবং নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করার মুহূর্তগুলো পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও সতেজ করে তোলে। আরও পড়ুন ভিসা হাতে হাসি, ভেতরে কঠিন বাস্তবতা তবে ভ্রমণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি অপেক্ষা করছিল রুজভেল্ট আইল্যান্ড ট্রামরাইডে। ক্যাবল কারে চড়ে শূন্যে ঝুলতে ঝুলতে ইস্ট রিভার পার হয়ে ম্যানহাটনে প্রবেশ করার অনুভূতি ছিল এক কথায় অসাধারণ। আকাশপথ থেকে নিচে প্রসারিত নদী ও শহরের দৃশ্য দেখার এই অভিজ্ঞতা সবার মনেই এক রূপকথার মতো রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দেয়। রোমাঞ্চ আর আনন্দের এই মেলবন্ধন ভ্রমণটিকে একটি বিশেষ মাত্রা দান করে। ম্যানহাটনে নেমে আমরা সবাই একটি পার্কের ছায়াঘেরা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাই। শহরের কোলাহল থেকে দূরে ওপেন-এয়ার পার্কে বসে গল্প-আড্ডা এবং সবাই মিলে খাবার ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তগুলো পারিবারিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। দিনলিপির এমন ছোট ছোট আনন্দই মূলত স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করে। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল স্থাপত্যশৈলীর বিস্ময় হাডসন ইয়ার্ডস। সেখানে পৌঁছে বিখ্যাত ‘ভেসেল’-এর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার আনন্দ ছিল দেখার মতো। প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করার চেষ্টা ছিল সবার মধ্যেই, যেন সময়ের স্রোতে এই দিনটি হারিয়ে না যায়। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের পটভূমিতে তোলা ছবিগুলো এই সুন্দর দিনটির চিরন্তন স্মারক হয়ে থাকবে। দিনশেষে আবার কিছুটা পথ হেঁটে ট্রেনে চড়ে সবাই যার যার গন্তব্যে ফিরে যাই। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো এই ধরনের মেলবন্ধন ও ভ্রমণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি দূর করে নতুন মানসিক শক্তি জোগায়। পুরো দিনজুড়ে হাঁটা, রোমাঞ্চকর ভ্রমণ, সুস্বাদু খাবার, ছবি তোলা এবং সম্পর্কের উষ্ণতা উপভোগ করার এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং এক অনন্য স্মৃতি হিসেবে চিরকাল হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে। এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>