বিজ্ঞাপন
প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় কাউকে কবর দেওয়ার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের নাম উচ্চারণ করে তিনবার ডাকা হয়, তারপর বলা হয়, ‘তোমার রব আল্লাহ, তোমার দ্বীন ইসলাম, তোমার নবী মুহাম্মদ (স.)...’ এভাবে উপদেশ দিলে নাকি মৃতের কবরের প্রশ্নোত্তর সহজ হয়। প্রশ্ন হলো, এভাবে মৃতকে উপদেশ দেওয়া কি সুন্নত? এতে কি আসলেই মৃতের উপকার হয়?
উত্তর: দাফনের পর কবরে দাঁড়িয়ে মৃতকে উপদেশ দেওয়া বা কবরের প্রশ্নোত্তর শিখিয়ে দেওয়া সুন্নত নয়। নবীজি (সা.) এ রকম কোনো আমল করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত কোনো হাদিসে পাওয়া যায় না। সাহাবিদের মধ্যেও এ রকম কোনো আমলের প্রচলন ছিল বলে জানা যায় না।
এ ব্যাপারে একটি হাদিস বর্ণনা করা হয় যাকে মুহাদ্দিসগণ অত্যন্ত দুর্বল বা বানোয়াট বলেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে কোনো আমল করাকে বিদআত বলেছেন। তাই এই আমলটি পরিহার করাই উত্তম।
কাউকে দাফন করার পর সুন্নত আমল হলো, কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে মৃতের জন্য রহমত ও মাগফেরাত প্রার্থনা করা, ফেরেশতাদের প্রশ্নের জবাবে তার ইমানি দৃঢ়তা প্রার্থনা করা। রাসুল (সা.) এ রকম আমল করেছেন বলে বর্ণিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
কবর জিয়ারতের নিয়ম ও দোয়া
ওসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। তার জন্য দৃঢ়তার দোয়া করো। এখনই তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৩২১৩)
সহিহ মুসলিমে এসেছে বিখ্যাত সাহাবি আমর ইবনুল আস (রা.) তার মৃত্যুর সময় অসিয়ত করেছিলেন, তাকে দাফন করার পর কবরের পাশে অবস্থান করে দোয়া করতে। আবদুর রহমান ইবনে শামাসাহ থেকে বর্ণিত রয়েছে মৃত্যুর সময় আমর ইবনুল আস (রা.) বলেছিলেন, আমি যখন মারা যাব, তখন যেন কোনো বিলাপকারিনী অথবা আগুন আমার জানাজার সাথে না থাকে। আমাকে যখন দাফন করবে তখন আমার ওপর আস্তে আস্তে মাটি ফেলবে এবং দাফনের পর একটি উট জবাই করে তার মাংস বণ্টন করতে যতক্ষণ সময় লাগে, ততক্ষন আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যেন তোমাদের উপস্থিতির (দোয়া ও ইস্তেগফারের) কারণে আমি আতঙ্কমুক্ত অবস্থায় চিন্তা করতে পারি যে, আমার রবের দূতদের প্রশ্নের কী জবাব দেব। (সহিহ মুসলিম: ১২১)
আরও পড়ুন
কবর পাকা করার বিধান
ওএফএফ
বিজ্ঞাপন