বিজ্ঞাপন
শহীদ ফেলানীকে স্মরণ ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত ‘খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কনফারেন্স রুমে এ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক সানজিদা আক্তারের সহযোগিতায় গত জানুয়ারি মাসে ফেলানীকে উদ্দেশ্য করে এ খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক সানজিদা আক্তার, সদস্য আনাস ইবনে মুনিরসহ ডাকসুর বিভিন্ন হল সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ২০১১ সালের ফেলানী হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, ফেলানীর মৃত্যুর পর একজন নাগরিক হিসেবে তার বিচার পাওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তৎকালীন সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মহিউদ্দিন খান বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা কোনটি বা কোনটি নয়- এ নিয়ে বিতর্ক না করে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ফেলানীর প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ফেলানীর ঘটনাকে স্মরণে রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ফেলানীর আত্মত্যাগ আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যেতে শুরু করেছিলাম। আমরা চাই, তার এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই যেন ভুলে না যাই।’ ফেলানীর স্মৃতি ধরে রাখতে ডাকসুর এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ১১ বছর বয়সী ফেলানীকে সীমান্তে হত্যার পর তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা দেশের মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের একটি প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, সীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং বিগত সময়ের বিভিন্ন চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সীমান্ত হত্যার মতো ঘটনায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
ফেলানী হত্যার বিচার প্রসঙ্গে মোসাদ্দেক বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েও প্রতিটি সীমান্ত হত্যার বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ফেলানীর পরিবার হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার জন্য তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানকে দায়ী করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ডাকসুর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ার পরও ব্যক্তিগত ও বেসরকারি সহযোগিতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফেলানীকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহ-আয়োজক সানজিদা আক্তার বলেন, কবি সুফিয়া কামাল হলের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ থেকেই বিভিন্ন মত ও অবস্থানের মানুষের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আয়োজনটি বেশ আগে করা হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে পুরস্কার বিতরণীসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে।
ফেলানীকে নিয়ে কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি শিশুর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা যেন প্রাণ না হারান—এমন একটি অবস্থান থেকেই তিনি এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন।
সানজিদা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের লেখা নিয়ে একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বইটি বর্তমানে প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এতে তার একটি সহ-সম্পাদকীয় লেখাও থাকবে, যেখানে ফেলানীকে নিয়ে কাজ করার প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আরটি/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন