বিজ্ঞাপন
আজ আমরা যেভাবে পরম মমতায় আমাদের সন্তানদের লালন-পালন করছি, একটা সময় আমাদের মা-বাবাও ঠিক সেভাবেই আমাদের বুক আগলে বড় করেছিলেন। আমাদের ছোট্ট একটি কান্নায় তারা ব্যাকুল হয়ে ছুটে এসেছেন, আমাদের সামান্য কষ্টে তাদের হৃদয় কেঁদে উঠেছে।
নিজেদের সমস্ত সুখ-শান্তি ও আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে কেবল আমাদের মুখেই ফুটিয়েছেন হাসির আলো। অথচ জীবনের এক বিষাদময় বাস্তবতায় এসে সেই মা-বাবাই অনেক সময় সন্তানের কাছে অপাঙ্কতেয় বা বোঝা হয়ে দাঁড়ান।
একটি শিশু যেমন চরম অসহায় অবস্থায় মায়ের স্নেহের জন্য কান্নাকাটি করে, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মা-বাবাও তেমনি সন্তানের একটু ভালোবাসা, সামান্য সময় আর দুটি মিষ্টি কথার জন্য পথ চেয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন
মালয়েশিয়ায় ২৫২ অভিবাসী আটক, ১৬৪ জনই বাংলাদেশি
বয়স বাড়লে মানুষের শরীর হয়তো শীর্ণ হয়, মন দুর্বল হয়, কিন্তু ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা কমে না- বরং বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সত্যটি আমরা অনেকেই ভুলে যাই। সংসারের ব্যস্ততা কিংবা ক্ষণিকের ক্ষোভের বশে মা-বাবার সঙ্গে এমন কটু আচরণ করে ফেলি, যা তাদের হৃদয়ে এক গভীর ও অলক্ষ্য ক্ষত তৈরি করে।
মনে রাখা জরুরি, মা-বাবার চোখের পানি কখনো কোনো সন্তানের জীবনে কল্যাণ বা সমৃদ্ধি বয়ে আনে না। যে বাবা-মা সারা জীবন নিজের জীবনের সবকিছু উজাড় করে সন্তানকে মানুষ করলেন, জীবনের সায়াহ্নে এসে তাদের মনে কষ্ট দেওয়া কেবল অকৃতজ্ঞতাই নয়, মারাত্মক মানবিক অপরাধও বটে। তাদের হৃদয় ভাঙার বেদনায় যেমন এ দুনিয়ার মানসিক শান্তি বিনষ্ট হয়, তেমনি পরকালের মুক্তিও সংকাটাপন্ন হয়ে পড়ে।
সমাজবিজ্ঞান বা মনস্তত্ত্ব যা-ই বলি না কেন, প্রকৃতির নিয়ম বড় নির্মম। আজ আমরা নিজেদের সন্তানদের কাছ থেকে যে সম্মান ও যত্ন আশা করি, ঠিক একই আশা একদিন আমাদের মা-বাবাও আমাদের কাছ থেকে করেছিলেন। আজ যদি আমরা তাদের অবহেলা করি বা মানসিকভাবে পীড়া দিই, তবে ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানেরাও যে আমাদের সঙ্গে একই আচরণ করবে না- তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তাই মা-বাবা বেঁচে থাকতে তাদের উপযুক্ত স্থান ও মূল্য দিন। তাদের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর নরম রাখুন, একটু ধৈর্য নিয়ে তাদের কথা শুনুন, ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় তাদের পাশে বসুন। যে কথা বা আচরণ তাদের শেষ বয়সের মনস্তাপের কারণ হতে পারে, তা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
তাদের দোয়া ও সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। মা-বাবার মনে বিন্দুমাত্র কষ্ট জমিয়ে রেখে তাদের এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল সন্তানের কাজ হতে পারে না।
এমআরএম
বিজ্ঞাপন