জাতীয়

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মাছের মড়ক, এক রাতেই ক্ষতি সাড়ে ১৫ কোটি টাকা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলের একটি মৎস্যঘেরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অক্সিজেন সংকটে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামার মালিকেরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এ মাছের মড়ক শুরু হয়। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল হতে না হতেই বিপুল পরিমাণ মৃত মাছ পানিতে ভেসে ওঠে। খামার মালিকদের অভিযোগ, ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া যোগ হওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। ঘেরটি এ এফ মৎস্য খামারের। যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০ বিঘার ঘেরটিতে প্রায় ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। ১৫টি মাছে এক কেজি ধরে মোট উৎপাদনের পরিমাণ হয় প্রায় ১০ হাজার মণ। প্রতি মণ মাছের বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা হিসাবে শুধু পাবদা মাছের আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা। অন্যান্য প্রজাতির মাছসহ সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি তাদের। খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ঘেরে থাকা মাছের বড় একটি অংশ বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। মাছগুলো বাজারজাত করার পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে তার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিপুল ক্ষতির পর সেই ঋণ পরিশোধ এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অপর খামারি ফারুক হোসেন বলেন, রাত ১টার পর বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে যায়। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পরে পচতে শুরু করে। খামারটির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০টি পরিবার নির্ভরশীল বলেও জানান তিনি। সরেজমিনে ঘের এলাকায় পানির ওপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম এক রাতেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পরও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মৎস্যচাষিরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে উপজেলার অন্যান্য খামারেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অক্সিজেন সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল বড় ঘেরগুলোতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ও অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মো. জামাল হোসেন/এসজেডএইচ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>