প্রচ্ছদ

ঘর পরিষ্কার রাখার ৮ জাপানি কৌশল, সহজেই ঝকঝকে থাকবে আপনার বাড়ি

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘর শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানসিক স্বস্তি ও সুস্থ জীবনযাপনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জাপানে ঘর পরিষ্কার রাখা কোনও বিশেষ দিনের কাজ নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাস। ছোট ছোট নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমেই তাঁরা ঘরকে রাখেন গোছানো, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক। জাপানি সংস্কৃতিতে ‘ওসোজি’ (Ōsōji) নামে বছরের শেষ দিকে বড় ধরনের ঘর পরিষ্কারের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তবে সারা বছর তাঁরা এমন কিছু অভ্যাস মেনে চলেন, যার ফলে ঘর কখনও খুব বেশি অগোছালো বা নোংরা হয়ে ওঠে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মিত যত্নই দীর্ঘমেয়াদে সময় ও শ্রম— দুটোই বাঁচায়। ১. কাজ শেষ, সঙ্গে সঙ্গেই গুছিয়ে ফেলা জাপানিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, কোনও কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই জায়গা পরিষ্কার করে রাখা। রান্না শেষ হলে চুলা ও সিঙ্ক মুছে ফেলা, ব্যবহার করা জিনিস আবার নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেওয়া কিংবা পোশাক বদলানোর পর তা গুছিয়ে রাখা— এসব তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাস। ফলে পরে একসঙ্গে অনেক কাজ জমে যায় না। ২. অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে দেন না জাপানে মিনিমালিস্ট জীবনধারার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না— এমন জিনিস ঘরে জমিয়ে রাখার বদলে অনেকেই দান করেন, পুনর্ব্যবহার করেন বা সরিয়ে ফেলেন। এতে ঘরে জায়গা বাড়ে, পরিষ্কার করাও সহজ হয়। ৩. প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা কাঁচি, রিমোট, চার্জার কিংবা চাবি— সবকিছুর জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করে রাখেন তাঁরা। ব্যবহার শেষে জিনিসটি সেই জায়গাতেই ফিরিয়ে রাখা হয়। এতে প্রয়োজনের সময় খুঁজতে হয় না, আবার ঘরও অগোছালো লাগে না। ৪. ঘরে ঢোকার আগে জুতো খুলে রাখা জাপানি ঘরে প্রবেশের আগে জুতো খুলে রাখার সংস্কৃতি বহু পুরোনো। অনেক বাড়িতে প্রবেশপথে ‘গেনকান’ (Genkan) নামে আলাদা একটি অংশ থাকে, যেখানে জুতো রাখা হয়। এতে বাইরের ধুলো, কাদা ও জীবাণু ঘরের ভেতরে কম প্রবেশ করে এবং মেঝে দীর্ঘ সময় পরিষ্কার থাকে। ৫. প্রতিদিন অল্প অল্প পরিষ্কার এক দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিষ্কার করার বদলে তাঁরা প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় দেন। টেবিল মুছে নেওয়া, ধুলো ঝাড়া, বাথরুম দ্রুত পরিষ্কার করা কিংবা রান্নাঘরের কাউন্টার মুছে রাখা— এসব ছোট কাজই বড় পরিষ্কারের প্রয়োজন কমিয়ে দেয়। ৬. নতুন এলে পুরোনো বিদায় জাপানিদের একটি জনপ্রিয় নিয়ম হলো ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’। অর্থাৎ ঘরে নতুন কোনও জিনিস এলে পুরোনো একটি জিনিস সরিয়ে দেওয়া। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ঘর অযথা ভরে যায় না। ৭. পরিবারের সবাই ভাগ করে নেন দায়িত্ব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু একজনের নয়। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নেন। কেউ বাসন ধোয়া, কেউ কাপড় গুছানো, কেউ মেঝে পরিষ্কার— এভাবে সবাই অংশ নিলে কাজও দ্রুত শেষ হয়, কারও ওপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না। ৮. শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় পরিচ্ছন্নতা জাপানে পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীরাই নিজেদের শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করে। এতে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং নিজের পরিবেশের প্রতি যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা পরবর্তী জীবনেও বজায় থাকে। শুধু পরিষ্কার নয়, এটি একটি জীবনদর্শন জাপানিদের কাছে ঘর পরিষ্কার রাখা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি শৃঙ্খলা, মানসিক প্রশান্তি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ। প্রতিদিন কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে আলাদা করে বড় পরিষ্কারের চাপও কমে যায়। তাই দামি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জামের চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট অভ্যাসই একটি ঝকঝকে ও আরামদায়ক বাসস্থান গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>