জাতীয়

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষায় মরিনহো, বাঁচালেন বদলি খেলোয়াড়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দীর্ঘ ১৩ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছেন হোসে মরিনহো। প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই অবশ্য কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল পর্তুগিজ কোচকে। শেষ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় কার্লোস এস্পির শেষ মুহূর্তের গোলে এস্পানিওলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে জয় দিয়ে নতুন লা লিগা মৌসুম শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। মাত্র নবম মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামের গোলে এগিয়ে যায় তারা। আরদা গুলেরের দারুণ ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বলে বেলিংহ্যাম দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান। মরিনহোর জন্য এর চেয়ে ভালো শুরু আর কি-ইবা হতে পারত! গোল খাওয়ার পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এস্পানিওল। রিয়ালের রক্ষণকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে স্বাগতিকরা। কিলিয়ান এমবাপেকেও একবার গোল করা থেকে বঞ্চিত করেন জার্মান ডিফেন্ডার ক্লেমেন্স রিডেল। দুর্দান্ত শেষ মুহূর্তের ট্যাকেলে ফরাসি তারকার সামনে থেকে বল কেড়ে নেন তিনি। রিয়াল তখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল; কিন্তু ডিফেন্ডার ডিন হুইসেনের বাঁ চোখের ওপরে কেটে যাওয়ায় খেলা কিছুক্ষণের জন্য থামাতে হয়। সেই বিরতির পরই যেন ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। ৩০ মিনিটে সমতায় ফেরে এস্পানিওল। দারুণ কিছু পাসের পর জাভি হার্নান্দেজের কাটব্যাক পেয়ে আলেক্স কালাত্রাভা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে আরসিডিই স্টেডিয়ামের গ্যালারি। সমতায় ফেরার পর রিয়াল আবারও চাপ বাড়ায়। এমবাপে দ্রুতই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান। তবে স্বাগতিক গোলরক্ষক মার্কো দিমিত্রোভিচ অসাধারণ দক্ষতায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন। প্রথমটি পা দিয়ে ঠেকানোর পর দ্বিতীয়বার নিচু শটও আটকে দেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বরং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল এস্পানিওলের সামনে। একেবারে ফাঁকা গোলের সামনে থেকেও রবার্তো ফার্নান্দেজের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবার রিয়ালের আধিপত্য। কর্নার থেকে গুলেরের ক্রস পেয়ে বেলিংহামের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন দিমিত্রোভিচ। ফিরতি বল পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপে- হেডে বল চলে যায় অল্পের জন্য বাইরে। এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় রিয়াল। ইব্রাহিমা কোনাতের হেড সরাসরি চলে যায় দিমিত্রোভিচের হাতে। এমবাপে ফ্রি-কিক থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তার কারণে বারবার রিয়ালের আক্রমণ আটকে যাচ্ছিল। ৬৪ মিনিটে মাঠে নামেন আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্দে। চলতি মাসেই লাইপজিগ থেকে রিয়ালে যোগ দিয়েছেন তিনি। তার চুক্তির অঙ্ক বিভিন্ন পারফরম্যান্স বোনাসসহ সর্বোচ্চ ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত যেতে পারে। গুলেরের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে রিয়ালের জার্সিতে অভিষেক হয় তার। রিয়াল এরপরও জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। এমবাপে ও দেনজেল ডামফ্রিসের শট ব্লক করে দেয় এস্পানিওলের রক্ষণ। এরপর দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। কিন্তু তার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে হয়তো এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সব হিসাব। ৮০ মিনিটে বেলিংহামের বদলি হিসেবে মাঠে নামা কার্লোস এস্পিই হয়ে ওঠেন রিয়ালের নায়ক। বক্সের ভেতর এমবাপেকে ঘিরে ফেলেছিলেন এস্পানিওলের কয়েকজন ডিফেন্ডার। সেই পরিস্থিতিতে আলগা হয়ে যাওয়া বল পেয়ে খুব কাছ থেকে জোরালো শটে জালে পাঠান এস্পি। শেষ বাঁশি বাজার আগে আর কোনো জবাব দিতে পারেনি এস্পানিওল। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয় মরিনহোর দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই এল। ১৩ বছর পর ক্লাবটিতে ফেরার শুরুটা হলো জয় দিয়ে। তবে ম্যাচের পারফরম্যান্সে যে জায়গাগুলোতে উন্নতির সুযোগ রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে এমবাপে একাধিক সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি। অন্যদিকে এস্পানিওলের গোলরক্ষক দিমিত্রোভিচও রিয়ালের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বদলি এস্পির শেষ মুহূর্তের গোলই সব পার্থক্য গড়ে দেয়। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>