জাতীয়

ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন, সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
মেহেরপুরে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালুকে (৫১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের বিচারক আলী মাসুদ সেখ এ দণ্ডাদেশ দেন। রায়ে আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাবাস দেওয়া হয়। এছাড়াও রায়ে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসক আসামি কলিম উদ্দিন কালুর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করবেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন। পরে ওই টাকা ভিকটিমকে প্রদান করবেন আদালত। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য। রায় শোনার পরই আসামি কলিম উদ্দিন কালু আদালত প্রাঙ্গণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক প্রতিবন্ধী নারী রাতের খাবার খেয়ে ঘরে শুয়ে ছিলেন। আসামি কলিম উদ্দিন কালু ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন। ওই নারী চিৎকার করলে পালিয়ে যান কালু। ২১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খান মারুফুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এছাড়াও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার সিআইডিতে ভিকটিমের পরিহিত কাপড় পাঠানো হয়। আসামি ও ভিকটিমের সংগ্রহীত ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। মামলাটিতে সরকারি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুস্তিাফিজুর রহমান তুহিন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট ইব্রাহমী শাহীন ও অ্যাডভোকেট এ.কে.এম শফিকুল আলম। পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালু ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এছাড়াও চলতি ইউপি সদস্য হওয়ায় নাানাভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বাদীপক্ষের সঙ্গে আপোষের চেষ্টা করেছেন। হুমকি প্রদান করে সাক্ষীদের আদালতে সাক্ষ্য দিতেও বাধা প্রদান করেন। এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রিতিষ্ঠত হলো। আসিফ ইকবাল/এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>