জাতীয়

নতুন মৌসুম, পুরোনো বায়ার্ন, মৌসুম শুরু শিরোপা দিয়েই

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
নতুন মৌসুম শুরুর আগেই নিজেদের শক্তির জানান দিল বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান সুপারকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতলো বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা। ডর্টমুন্ডের ঘরের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্কে জয় তুলে নিয়ে নতুন মৌসুমের প্রথম শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে বায়ার্ন। ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে গোল করেন গ্রীষ্মের দলবদলে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বড় অঙ্কের ট্রান্সফারে আসা নাথানিয়েল ব্রাউন ও ফরাসি ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে। ডর্টমুন্ডের হয়ে ব্যবধান কমান ফ্যাবিও সিলভা। শেষ দিকে রামি বেনসেবাইনি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে ডর্টমুন্ডের বিপুল সমর্থকদের সামনে ম্যাচের শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলতে থাকে বায়ার্ন। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের প্রথমবারের শট সরাসরি চলে যায় গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের হাতে। এরপর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের দূরপাল্লার লবও সামলে নেন ডর্টমুন্ডের গোলরক্ষক। ২৮ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় বায়ার্ন। মাঝমাঠ থেকে আসা বল পেয়ে ডর্টমুন্ডের বক্সে ঢুকে পড়েন ওলিসে। সেখান থেকে পেছনে বাড়িয়ে দেন বল। জায়গামতো পৌঁছে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে পাঠান ব্রাউন। বায়ার্নের জার্সিতে এটিই ছিল ব্রাউনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক গোল। নতুন ক্লাবে নিজের প্রথম বড় ম্যাচেই গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে তিনি আগমনের জানানটাও দিয়ে রাখলেন। গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় বায়ার্ন। বাঁ-দিক থেকে ভেতরে ঢুকে লুইস দিয়াজ নিচু ও বাঁকানো শট নেন। তবে তা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন কোবেল। এরপর ব্রাউনের আরেকটি শট গোলের মুখ ঘেঁষে চলে যায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় বায়ার্ন। ডান দিক দিয়ে ডর্টমুন্ডের বক্সে ঢুকে পড়েন ওলিসে। দেখে মনে হচ্ছিল, বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দারুণ দক্ষতায় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দূরের পোস্টের কোণ দিয়ে শট নেন। কোবেলকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। বিরতির আগেই দুই গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ডর্টমুন্ড আক্রমণে গতি বাড়ায় এবং বায়ার্নের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে। বদলি হিসেবে নামা গ্রিক উইঙ্গার ইয়ানিস কনস্টানটেলিয়াস, যিনি গ্রীষ্মে পিএওকে থেকে ডর্টমুন্ডে যোগ দিয়েছেন, দ্রুতই প্রভাব ফেলেন। তার নেওয়া ভলিতে বায়ার্নের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল কর্নারের জন্য চলে যায়। এরপর কর্নার থেকে আসা বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি বায়ার্ন। কনস্টান্টিনোস কারেতসাস নিচু ভলিতে শট নেন, তবে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার নিচে ঝাঁপিয়ে সেটি আটকে দেন। ডর্টমুন্ডের চাপ অবশেষে সফল হয় ৭৫ মিনিটে। বাঁ দিক দিয়ে কনস্টানটেলিয়াসের দারুণ দৌড়ের পর তার তৈরি করা আক্রমণ থেকে ড্যানিয়েল সভেনসনের ক্রস আসে বক্সে। সেই ক্রস পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ফাবিও সিলভা। ব্যবধান নেমে আসে ২-১-এ। এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ডর্টমুন্ড। হ্যারি কেইন ২০ গজ দূর থেকে বাঁকানো শট নিয়ে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। অন্যদিকে সিলভা আবারও হেডে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু এবার তার প্রচেষ্টা সরাসরি নয়্যারের হাতে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে ডর্টমুন্ডের বিপদ আরও বাড়ে। চোটের সমস্যায় ভুগতে থাকা রামি বেনসেবাইনি তখন মাঠে ছিলেন। কিন্তু ডর্টমুন্ডের আর কোনো বদলি খেলোয়াড় না থাকায় তাকে মাঠেই রাখতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইসমায়েল সাইবারিকে করা এক ট্যাকেলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বেনসেবাইনি। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ডর্টমুন্ড। যোগ করা সময়ে বায়ার্নের তৃতীয় গোলের সুযোগও আসে। ওলিসেকে একা গোলের দিকে ছুটে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোবেলকে পরাস্ত করতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। শেষ মুহূর্তে অবশ্য সমতা ফেরানোর অসাধারণ সুযোগ পেয়েছিল ডর্টমুন্ড। ওয়াল্ডেমার আন্তনের উঁচু করে বাড়ানো বলে বক্সের ছয় গজের মধ্যে বল পেয়ে যান ম্যাক্সিমিলিয়ান বেয়ার। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে বসেন তিনি। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় বায়ার্নের। বায়ার্নের এই জয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল জামাল মুসিয়ালার অনুপস্থিতি। প্রাক-মৌসুমের দুটি ম্যাচে মাঠে পড়ে যাওয়ার পর স্নায়ুবিক সমস্যার চিকিৎসায় ওষুধ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন জার্মানির এই তারকা। তাই সুপারকাপের ম্যাচে তাকে পাওয়া যায়নি। তার অনুপস্থিতিতেও ওলিসে, ব্রাউন, লুইস দিয়াজ ও হ্যারি কেইনদের নিয়ে বায়ার্নের আক্রমণ যথেষ্ট ধারালো ছিল। বিশেষ করে ওলিসের গোল ও অ্যাসিস্ট দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>