জাতীয়

অন্তরের গভীরে এই শূন্যতা কীসের?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আমাদের রুহ বা আত্মা সম্পূর্ণ আলাদা এক ধরনের বুদ্ধিমত্তা বহন করে। আবার আমাদের মস্তিষ্কেরও রয়েছে নিজস্ব এক বুদ্ধিমত্তা। আমরা সবাই যেহেতু মস্তিষ্কের অধিকারী, তাই এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আমরা খুব ভালোভাবেই অবগত। স্কুলে পড়ার সময় কিংবা নানা বাস্তব প্রয়োজনে আমাদের নিয়মিত মস্তিষ্ক ব্যবহার করতেই হয়। ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইনজীবী পেশা যা-ই হোক না কেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে তার মস্তিষ্ক খাটতে হয়। সমস্যা চিহ্নিত করা, বিশ্লেষণ করা কিংবা সমাধান খোঁজার কাজে আমাদের এই শারীরিক মস্তিষ্ক কাজ করে। কিন্তু রুহের যে বুদ্ধিমত্তা, তা একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের। একে আমরা এক কথায় ‘আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তা’ বলতে পারি। কোরআনের ভাষায় এই আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তাকে ‘কলব’ বা অন্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানুষ অনেক সময় এই আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে অনুধাবন করে না। আজকাল অনেকে ভৌত জগৎ আর রুহানি জগতের পার্থক্য না বুঝে প্রশ্ন করেন, অন্তর আবার কীভাবে চিন্তা করে? চিন্তা তো মস্তিষ্ক করে। জীববিজ্ঞানের দিক থেকে কোরআনের এই কথা নাকি ভুল! কিন্তু এটি বুঝতে হবে যে, কোরআন কোনো শারীরিক বা জৈবিক অঙ্গের কথা বলছে না। কোরআন এখানে আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং সেই আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞাকেই ‘কলব’ নামে সংজ্ঞায়িত করেছে। মানুষ যখন তার এই আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তার চর্চা বন্ধ করে দেয়, তখন কোরআনের ভাষায় তার অন্তর কঠিন হয়ে যায়, মোড়ানো বা আবৃত হয়ে পড়ে, এমনকি এক সময় তা মৃতের মতো হয়ে যায়। কোরআনে বলা হয়েছে, এতে তো অবশ্যই উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার একখানি জীবন্ত অন্তর আছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে অন্তর তো সবারই আছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো অনেকেই তাদের আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞার ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। তারা কেবল শারীরিক মস্তিষ্ক দিয়েই সবকিছু চিন্তা করছেন, ভেতরের সেই আধ্যাত্মিক অন্তরকে একপাশে সরিয়ে রেখেছেন। আরও পড়ুন নোমান আলী খান / প্রেমে না জড়িয়ে যেভাবে সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন শারীরিক মস্তিষ্ক ভাবে খাবার, বাসস্থান, পোশাক কিংবা উপার্জনের উপায় নিয়ে। কারণ ক্ষুধা, তৃষ্ণা, যৌনতা বা নিরাপত্তার চাহিদা হলো আমাদের এই বস্তুগত দেহ ও শারীরিক মস্তিষ্কের। কিন্তু আধ্যাত্মিক অন্তরের ক্ষুধা ভিন্ন। সে খোঁজে রুহের খোরাক। বন্ধুবান্ধব নিয়ে চমৎকার খাবার খেলেন, ঘুরে বেড়ালেন, কিন্তু দিনশেষে ভেতরের এক অদ্ভুত শূন্যতা আপনাকে ঘিরে ধরল। এই শূন্যতার কারণ হলো, আপনার আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তা বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছে যে, সে যা খুঁজছিল তা এই আয়োজনে পায়নি। তখন সে অন্য কোথাও সেই কাঙ্ক্ষিত খোরাক পাওয়ার সন্ধান করতে থাকে। এ প্রসঙ্গে ড. আবদুল্লাহ রথম্যানের জীবনকাহিনীর কথা বলা যায়। মনোবিজ্ঞানের প্রথিতযশা এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শ্বেতাঙ্গ মানুষটির মনে হঠাৎ প্রশ্ন জাগে ‘আত্মা’ বা রুহ আসলে কী? কোনো ধর্মীয় ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্ত্বেও তিনি রুহের রহস্য বুঝতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। তিনি ঠিক করলেন পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মে রুহ বা আত্মাকে কীভাবে দেখা হয়, তা তিনি কাছ থেকে পরখ করবেন। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ভারতের হিন্দু মন্দিরে পুরোহিতের মতো পোশাক ও জীবনযাপন বজায় রেখে কাটালেন। এরপর জ্যামাইকার শামানদের সাথে জঙ্গলে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী উপায়ে মাছ শিকার করে থাকলেন। তারপর সময় কাটালেন ইহুদিদের সেমিনারি ও খ্রিস্টানদের চর্চাকেন্দ্রে। তিনি কেবল দূর থেকে পড়াশোনা করেননি, বরং প্রতিটি সংস্কৃতির আধ্যাত্মিক চর্চার ভেতরে গভীরভাবে প্রবেশ করেছিলেন। সবকিছু প্রত্যক্ষ করার পর তিনি যখন মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স করতে ফিরে এলেন, তখন একজন তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কি ইসলামিক সাইকোলজি বা আধ্যাত্মিকতা নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছেন? তিনি কিছুটা কৌতূহলী হয়েই ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেন। আর তখনই তিনি বুঝতে পারলেন, যা তিনি এতদিন হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন, তা তিনি অবশেষে পেয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, সুদানে গিয়ে একজন শায়খের অধীনে দীর্ঘদিন আরবি ও ইসলামি মানসিক প্রজ্ঞা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি কেমব্রিজ ইসলামিক কলেজের ইসলামিক সাইকোলজি প্রোগ্রামের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই পথচলা মূলত রুহের সেই ভেতরের আকুলতারই ফসল। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষের ভেতরেই সত্যকে খোঁজার এই বিশেষ শক্তি ও আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা দিয়ে দিয়েছেন। কেউ হয়তো তাকে চুপ করিয়ে রাখে, কিন্তু এই খোরাকের প্রয়োজন আমাদের সবার ভেতরেই গভীরভাবে সুপ্ত থাকে। সূত্র: নোমান আলী খানের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল আরও পড়ুন নোমান আলী খান / ফেরেশতারা কেন শুধু আদমকে সিজদা করেছিলেন, হাওয়াকে নয় ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>