জাতীয়

সংকটে আটকা জিআই পণ্য লতিরাজ কচুর সম্ভাবনা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে জয়পুরহাটের ‘লতিরাজ কচু’। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে এই পণ্যের। তবে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠেনি বিক্রয়কেন্দ্র। এতে আটকা পড়েছে জেলার ব্র্যান্ডিং কৃষিভিত্তিক এই পণ্যের প্রসার। স্বল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লতিরাজ কচু চাষ। তবে এই পণ্যের বেশিরভাগই চাষাবাদ হয় পাঁচবিবি উপজেলায়। ২০১৭ সালে লতিরাজ কচুকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। আরও পড়ুন বরিশালে মালচিংয়ে কমছে চাষের খরচ, বাড়ছে ফলন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ১২০৯ হেক্টর জমিতে লতিরাজ কচুর চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, পাঁচবিবির কচুর লতির গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা, সরাসরি পাইকারের সঙ্গে কৃষকের সংযোগ এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই কৃষিপণ্যকে ঘিরে আরও বড় বাজার তৈরি হতে পারে। ‘লতিরাজ কচু জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত জেলার কোথাও সরকারি-বেসরকারিভাবে কচুর লতি বেচাকেনার হাট-বাজার গড়ে ওঠেনি। পাঁচবিবির বটতলীতে আমরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে জায়গা ভাড়া করে নিয়ে হাট-বাজার বসাই। কিন্তু সেখানেও দিতে হয় টাকা’—ব্যবসায়ী কৃষকরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কচুর লতির চাহিদা থাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ। তবে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, পরিবহন সংকট, সংরক্ষণের সুযোগ না থাকা এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই কৃষিপণ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। তাই অনেক কৃষকই লতির চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। পাঁচবিবি উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের কৃষক হাফিজুর শেখ। এবছর তিনি এক বিঘা জমিতে লতিরাজ কচু চাষাবাদ করেছেন। এক বিঘা জমিতে কচুর চারা, সার, শ্রমিক, সেচ, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার, নিয়মিত পরিচর্যা করাসহ সব মিলে খরচ হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন লক্ষাধিক টাকার কচু। প্রতিকেজির বাজারদর ৫০-৫২ টাকা। আরও পড়ুন দেশে নিবন্ধিত জিআই পণ্য ৬৪টি: শিল্পমন্ত্রী তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‌‘লতিরাজ কচু চাষে খরচ কম, তবে লাভ বেশি। বাইরে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে আমরা আরও বেশি লাভ করতে পারব। এজন্য জেলায় বিক্রয়কেন্দ্র জরুরি।’ বটতলী লতিরাজ কচুর হাটে শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত বৃদ্ধ ইউসুফ আলী মন্ডল বলেন, প্রতিদিন ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা লতি নিয়ে হাটে আসেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন পাইকারের কাছে বিক্রি করেন কৃষকরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এরপর দূর-দূরান্তে থেকে আসা পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে এসব কচু কিনে নিয়ে প্যাকেজিং করে ট্রাকবোঝাই করে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। ‘অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় দিন দিন কচুর লতির চাষ বাড়ছে। তবে জেলার এই কৃষিপণ্যকে আরও লাভজনক পর্যায়ে নিতে হলে স্থায়ীভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। দূর-দূরান্তে থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশ্রামাগার, হাটের টয়লেট ব্যবস্থা, শেড নির্মাণ ও কৃষকদের সরাসরি কচু বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা প্রয়োজন’—কৃষি কর্মকর্তা স্থানীয় ব্যবসায়ী মমিজুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘লতিরাজ কচু জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত জেলার কোথাও সরকারি-বেসরকারিভাবে কচুর লতি বেচাকেনার হাট-বাজার গড়ে ওঠেনি। পাঁচবিবির বটতলীতে আমরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে জায়গা ভাড়া করে নিয়ে হাট-বাজার বসাই। কিন্তু সেখানেও দিতে হয় জমা (টাকা)।’ আরও পড়ুন ‘চাপে পড়ে’ অকৃষি প্রত্যয়ন, ময়মনসিংহে কমছে আবাদি জমি তিনি বলেন, ‘অস্থায়ী এই হাটজুড়েও নানান সমস্যা আছে। হাটের জায়গা নেই। ব্যবসায়ীদের ভাড়া করা জায়গায় হাট বসে। খোলা আকাশের নিচেই রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে এখানে ব্যবসা করতে হয়। বর্ষায় কাদা হয়। ময়লা ফেলার জায়গাটুকুও নেই। আমাদের দাবি, জেলায় একটি বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে উঠুক।’ এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় দিন দিন কচুর লতির চাষ বাড়ছে। তবে জেলার এই কৃষিপণ্যকে আরও লাভজনক পর্যায়ে নিতে হলে স্থায়ীভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। দূর-দূরান্তে থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশ্রামাগার, হাটের টয়লেট ব্যবস্থা, শেড নির্মাণ ও কৃষকদের সরাসরি কচু বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করণীয় তা করা হবে।’ আরও পড়ুন অ্যাপের হিসাব মানতে নারাজ কৃষক, সার বিক্রিতে উভয় সংকটে ডিলার জানতে চাইলে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন জাগো নিউজকে বলেন, ‌লতিরাজ কচুর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে যেসব সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আল-কারিয়া চৌধুরী/এসআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>