সারাদেশ

সর্দি-কাশিতে মধু কতটা উপকারী? শিশুদের ক্ষেত্রে জানুন সতর্কতার বিষয়গুলো

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগলে শিশুদের মধু খাওয়ানো আমাদের সমাজে বহুদিনের প্রচলিত একটি ঘরোয়া উপায়। অনেক বাবা-মা মনে করেন, চিনি না দিয়ে মধু খাওয়ানো স্বাস্থ্যকর। আবার কাশি কমাতে মধুর সঙ্গে তুলসীপাতার রস মিশিয়েও খাওয়ানো হয়। কিন্তু শিশুদের জন্য মধু সবসময় নিরাপদ কি না, তা জানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ মধুর মধ্যে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে, যা শিশুদের অপরিণত অন্ত্রে বৃদ্ধি পেয়ে ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’ নামের গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। এই অবস্থায় শিশুর শরীরে বিষাক্ত টক্সিন তৈরি হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে। এর ফলে পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, খাবার গিলতে সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্বাভাবিকের চেয়ে কম নড়াচড়া করা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে পক্ষাঘাত বা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। অনেকের ধারণা, মধু গরম করলে ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। মধু গরম করলেও বটুলিজমের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। তাই এক বছরের কম বয়সী শিশুর খাদ্যতালিকায় মধু রাখা নিরাপদ নয়। তবে এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে মধু কাশি উপশমে কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও কোনো শিশুর দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শিশুদের সর্দি-কাশি বা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় নিজে থেকে চিকিৎসা না করে প্রয়োজন হলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। কারণ প্রতিটি শিশুর শারীরিক অবস্থা আলাদা, এবং সঠিক চিকিৎসাই তাদের সুস্থতার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। মনে রাখুন এ বিষয়: এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।মধু গরম করলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।মধু খাওয়ার পর পেশি দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে ঘরোয়া টোটকার চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ বেশি নিরাপদ। শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>