জাতীয়

গুলি করে হত্যার ঘটনার পর জেনেছি ছেলেটি একজন পুলিশের

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
13 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইমকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাদরাসাশিক্ষক মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান।  রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই জবানবন্দি দেন তিনি। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ইমাম হাসান। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ইমাম হাসান যাত্রাবাড়ীর কাজলা ওভার ব্রিজের কাছে শহীদ হন। ইমাম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের এই সাক্ষী।   আরও পড়ুন গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু: ডিসিসহ ৫ জনের নামে মামলা জবানবন্দিতে রিদওয়ান হাসান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। আন্দোলনের এই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ যেন সাধারণ জনগণ জানতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ সরকার ইন্টারনেট শাউটডাউন করে দেয়। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (শুক্রবার) আমি যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করছিলাম। নামাজ চলাকালেই পুলিশ বিনা কারণে মাদরাসা লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করতে থাকলে নামাজরত মুসল্লিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে মুসল্লি ও মাদরাসার সাধারণ ছাত্ররা একযোগে রাস্তায় নেমে আসে।’ মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান বলেন, ‘এই দিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় দুজন মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ সারাদেশে কমপক্ষে ২৩ থেকে ২৪ জন নিহত হন। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর অন্যান্য এলাকা, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, মিরপুরসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। কওমি মাদরাসা বোর্ড বেফাকের সাবেক কর্মচারী শিহাব ছাদে অবস্থানকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। মাদরাসার শিক্ষার্থী আরিফ যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় শহীদ হন। ওই দিনই আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে সরকার কারফিউ জারি করে এবং দেখা মাত্রই গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।’ আরও পড়ুন যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যা / ডিএমপি কমিশনারসহ ১১ জনের বিচার শুরু তিনি আরও বলেন, পরদিন ২০ জুলাই দুপুর ১২ থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল। ওই সময় যাত্রাবাড়ী কাজলা ফ্লাইওভারের পাশে এক চায়ের দোকানে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে বের করে এনে মারধর করে এবং প্রকাশ্যে গুলি করে একজনকে হত্যা করে। আমি পরবর্তীতে জেনেছি ওই ছেলেটি ছিল একজন পুলিশ সদস্যের এবং তার নাম ইমাম হাসান তাইম ভূঁইয়া। সেদিনও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যাপক মাত্রায় আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং অনেককে হত্যা করা হয়। এ মামলায় আসামিরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসেন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহদাত আলী। এর মধ্যে আবুল হাসান ও শাহাদাত গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এফএইচ/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>