বিজ্ঞাপন
প্রিয় সুপারহিরোর পোশাক পরে দাবানল নেভাতে মাঠে নেমেছে ইন্দোনেশিয়ার ১৭ বছর বয়সী কিশোর রুদিয়ানসাহ। বোর্নিও দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে বাবার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে সে।
সুপারম্যানের পোশাকে আগুন নেভানোর দৃশ্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আরও পড়ুন
আইয়ুব বাচ্চুর গান নিয়ে বিতর্ক, ইউটিউব থেকে সরানোর দাবি
ইন্দোনেশিয়ার পালাংকারায়া শহরের আশপাশে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে গেছে বিস্তীর্ণ বন ও পিটভূমি। আগুনের ধোঁয়ায় দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে ঘন কুয়াশার মতো ধোঁয়াশা। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বোর্নিও দ্বীপ ভাগ করে নেওয়া মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইয়েও এর প্রভাব পড়েছে।
রুদিয়ানসাহ ২০২৩ সাল থেকেই স্কুলের পর অবসর সময়ে বাবার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত। তবে এ বছর সে সিদ্ধান্ত নেয়, প্রিয় সুপারম্যানের পোশাক পরেই আগুনের বিরুদ্ধে লড়বে। লাল-নীল পোশাকে, গায়ে কেপ জড়িয়ে আগুনে পোড়া বনভূমির মধ্যে তার উপস্থিতি তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
রুদিয়ানসাহ জানিয়েছে, সুপারম্যানের পোশাক পরার বিষয়টি মূলত তার কাছে আনন্দের। কিন্তু আগুন নেভানোর সময় পানি ছিটানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাতারাতি আলোচনায় চলে আসে সে। ভিডিওটি লাখ লাখবার দেখা হয়েছে। দেশটির বনমন্ত্রীও তাকে ‘বনের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রোববার কেপ পরা অবস্থায় রুদিয়ানসাহ বলেন, স্থানীয় মানুষের কাজে সহযোগিতা করতে পেরে তিনি সত্যিই আনন্দিত, যদিও কাজটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর। আগুনের মধ্যে যাওয়ার আগে পোশাকটি সামান্য ভিজিয়ে নেন বলেও জানান তিনি, যাতে আগুনের আঁচে সেটি পুড়ে না যায়। প্রতিদিন রাতে পোশাকটি ধুয়ে পরিষ্কার করেন।
রুদিয়ানসাহর বাবা মুলিয়াদি জানান, ২০২০ সালে তাদের স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপক দল গঠনের পর এ বছরের দাবানলের ধোঁয়াশাই সবচেয়ে ভয়াবহ। তাঁর ভাষায়, বাড়িতে ছেলে একেবারেই সাধারণ কিশোর। কিন্তু তিনি যখন আগুন নেভাতে বের হন, তখন রুদিয়ানসাহও সঙ্গে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
আগুন নেভানোর সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানির সংকট। দীর্ঘ খরার কারণে কূপসহ বিভিন্ন পানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুলিয়াদি।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দাবানলে দুই লাখ হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে গেছে। আয়তনের দিক থেকে এটি দেশটির রাজধানী জাকার্তার প্রায় তিন গুণ। আগের এল নিনো মৌসুম, বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের তুলনায়ও এবারের ক্ষয়ক্ষতি বেশি।
দাবানল ও ধোঁয়াশা নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া সরকার অতিরিক্ত সেনা ও উড়োজাহাজ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। আগুনের ধোঁয়া ইতোমধ্যে মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন
তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী প্রভা
আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো সাধারণত খরা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনও এমন চরম আবহাওয়ার প্রভাব আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতে বনরক্ষী হওয়ার স্বপ্ন দেখা রুদিয়ানসাহ আগুনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে অন্য স্বেচ্ছাসেবী ও অগ্নিনির্বাপকদেরও উৎসাহ দিয়েছে। তার আহ্বান, ‘ইন্দোনেশিয়ার সব স্বেচ্ছাসেবী ও অগ্নিনির্বাপককে বলছি, আগুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহস ধরে রাখুন।’
এলআইএ
বিজ্ঞাপন