বিজ্ঞাপন
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ চার দফা দাবিতে ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত ‘প্রচারযাত্রা’ শুরু করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের ২০ বছর পূর্তি সামনে রেখে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ প্রচারযাত্রা শুরু হয়। আগামী ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ যাত্রা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধ করা।
প্রচারযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ফুলবাড়ীবাসীর পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরকারী এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মোশাহিদা সুলতানা ঋতু এবং বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত বক্তব্য দেন। সমাবেশে ‘ফুলবাড়ী তাদের লড়াইয়ের কথা মনে রেখো’ শিরোনামের গান পরিবেশন করেন কোরাস সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী জয়মা মুনমুন। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক রাফিকুজ্জামান ফরিদ।
সমাবেশে মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, একটি দেশের সরকার যখন অনৈতিক হয় এবং সার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কিছু ব্যবসায়ী ও মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি থাকে, তখন কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ গড়ে তোলে। বর্তমানে সার সংকটে কৃষকদের বিক্ষোভ এবং বিদ্যুৎ সংকটে ভোক্তাদের বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনাও এরই প্রতিফলন।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার যে পথে এগিয়েছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। বিদ্যুৎ খাত বেসরকারীকরণের ফলে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, কিন্তু সংকটের সমাধান হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করে আমদানিনির্ভরতার দিকে যাওয়ায় সরকারের নীতির সমালোচনাও করেন তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রচারযাত্রায় উত্থাপিত চারটি দাবিই সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে। এর মূল লক্ষ্য জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় সংকটগুলোর জনবান্ধব সমাধান নিশ্চিত করা।
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তিটি করে বাংলাদেশকে একটি মহাবিপদের মধ্যে ফেলেছে। বর্তমানে সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয়পক্ষই চুক্তিটির সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে নীরব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফুলবাড়ী চুক্তির প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। ওই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী উন্নয়ন প্রকল্প না করা, উন্মুক্ত খনি তৈরি না করা এবং জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না করার বিষয় ছিল। ২০ বছর পর চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তারা প্রচারযাত্রা করছেন বলে জানান তিনি।
যে পথে যাবে প্রচারযাত্রা
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে যাত্রা শুরু করে গাজীপুর চৌরাস্তা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় ও বগুড়ার শেরপুরে পথসভা করার পর রাতে বগুড়া শহরে বিরতি নেবে প্রচারযাত্রাটি। পথে মাওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বগুড়ায় সমাবেশের পর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, দিনাজপুরের বিরামপুরে পথসভা এবং বিকেলে দিনাজপুর শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতে ফুলবাড়ীতে গিয়ে বিরতি নেবে দলটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রচারযাত্রার সদস্যরা। এদিন ফুলবাড়ী শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিহত এবং মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলে সরকারকে বাধ্য করার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রচারযাত্রা শেষ হবে।
এছাড়া, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আয়োজিত ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিপদের প্রদর্শনী’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে হওয়ার কথা রয়েছে।
এএমএ
বিজ্ঞাপন