ব্রেকিং নিউজ
নীল-সাদা জার্সিকে ‘বিদায়’ বললেন ফুটবলের জাদুকর মেসি ঢাকার ছিনতাইপ্রবণ ৩ শতাধিক স্থান চিহ্নিত থাকলেও, বেশি ছিনতাই হয় ৫০ এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: বিভীষিকাময় এক অধ্যায়ের সূচনা হলো যেভাবে মেসির ‘ছোট্ট’ ঘোষণায় কত কোটি মনে বড় শূন্যতা শাহজালালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত তৃতীয় টার্মিনালে সড়ক দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত ঢাকা ক্লাব সদস্যদের তথ্য চুরির অভিযোগ, আরআইটিবিডির সিইও রনি রিমান্ডে শিক্ষার্থীদের অনশনের মুখে কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চলতি সপ্তাহেই পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, একটি নয় হবে একাধিক ফের নতুন ফোনের নামে ব্যবহৃত ফোন বিক্রির অভিযোগ কেআরওয়াই ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে
জাতীয়

রাবিতে ভেঙে পড়েছে শিক্ষার্থীদের স্মৃতি বিজড়িত কৃষ্ণচূড়া গাছ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শুধু শিক্ষা ও গবেষণার জন্যই নয়, তার সবুজ-শ্যামল পরিবেশের জন্যও শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে পুরোনো গাছগুলো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া এমনই একটি গাছ এবার ভেঙে পড়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে অবস্থিত সেই ছায়াদানকারী কৃষ্ণচূড়া গাছটি। কৃষ্ণচূড়া গাছটি শুধু একটি গাছ ছিল না, ছিল ক্যাম্পাসের এক টুকরো স্মৃতি। রোদে ঘেমে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা তার ছায়ায় বসেছেন। কেউ বই খুলে পড়েছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতেছেন। পরীক্ষার ব্যস্ততার ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে অনেকেরই একটু স্বস্তির জায়গা ছিল এই গাছের ছায়া। কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে দৃশ্যটা হয়ে উঠত আরও অন্যরকম। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুলে গাছটি যেন পুরো ক্যাম্পাসেরই এক আলাদা সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠত। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। কেউ হয়ত ছবি তুলেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে, কেউবা একা দাঁড়িয়ে স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন গাছটির সৌন্দর্য। সময়ের সঙ্গে গাছটির বয়স বেড়েছে। কাণ্ডে এসেছে বার্ধক্যের ছাপ, ডালপালা হয়েছে দুর্বল। তবুও ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মধ্যে দাঁড়িয়েছিল সে। নতুন প্রজন্ম এসেছে, পুরোনো প্রজন্ম বিদায় নিয়েছে, কিন্তু কৃষ্ণচূড়াটি থেকে গেছে সেই একই জায়গায়। তাই এটি অনেকের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়, বরং ক্যাম্পাসের একটি স্মৃতির অধ্যায়ের সমাপ্তি। গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের অনেকে সেখানে ছুটে যান। কেউ বিস্মিত হয়ে দেখেছেন তার বিশাল কাণ্ড, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন শেষ দৃশ্যটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন। হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের জুবায়ের রহমান নামের একজন শিক্ষার্থী গাছটির স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা যারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষার্থী আছি তাদের কষ্টটা একটু বোধহয় বেশি। এইতো কয়েকদিন আগেই আমরা এখানে প্রোগ্রাম করলাম। ডিপার্টমেন্টে যত ধরনের অনুষ্ঠান হোক এখানে এসেই ছবি তুলি। প্রতিদিন বিল্ডিংয়ে ঢুকার আগে পরে চোখে পরে। এত এত স্মৃতি কীভাবে ভুলি?’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের একটি জীবন্ত প্রাণ ও ইতিহাসের একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে গেল। থমকে যাওয়া এই ডালে ডালে আজও লেগে আছে অজস্র শিক্ষার্থীর স্মৃতির মায়া।’ ইতিহাস বিভাগের মুবতাসির ফুয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটা ভেঙে পড়েছে। প্রেমিকা মারা গেলে হয়ত এত বেশি দুঃখ হতো না। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা ঘিরে বর্ষা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। এখন এই রাস্তাটা দিয়ে আর হাঁটবো কীভাবে? কীভাবে তাকাবো এই অনুপস্থিতির দিকে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি গাছ ছিলো কৃষ্ণচূড়া। গাছটাকে দেখে কখনও মনে হয়নি যে এটা ভেঙে পড়বে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য বয়স্ক কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোর চেয়ে এ গাছটির গঠনও আলাদা ছিলো। আসলে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এমন একটি সুন্দর গাছ হারালাম। গাছ ভেঙে পড়েছে, কিন্তু পড়ে যায়নি তার স্মৃতিগুলো। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলে, পুরোনো ছবিতে আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর গল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া সেই গাছটি হয়ত বেঁচে থাকবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির পাতায়। মিরাজ হোসেন/এসজেডএইচ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>