বিজ্ঞাপন
মহাজাগতিক এক অপরূপ সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। শিগগির আকাশে দেখা মিলবে এক অসাধারণ চন্দ্রগ্রহণের, যেখানে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশই ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়। এই বিরল ঘটনার ফলে আমাদের উপগ্রহটি এক গাঢ় রক্তিম বা লালচে আভা ধারণ করবে, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক চোখজুড়ানো দৃশ্য তৈরি করবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বাসিন্দারা পুরো গ্রহণটি স্পষ্টভাবে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মানুষ পূর্ণাঙ্গভাবে এই দৃশ্য দেখতে পারবেন। এছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার কিছু অংশে আংশিকভাবে এটি দেখা যাবে। সব মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।
চন্দ্রগ্রহণ কী ও কীভাবে ঘটে?
চন্দ্রগ্রহণ হলো একটি প্রাকৃতিক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া, যা সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নির্দিষ্ট অবস্থানের ফলে ঘটে থাকে। যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একদম এক সরলরেখায় পৃথিবী চলে আসে, তখন পৃথিবীর বিশাল ছায়া চন্দ্রপৃষ্ঠে গিয়ে পড়ে। এই বিশেষ মহাজাগতিক অবস্থানটি কেবল পূর্ণিমার দিনেই ঘটা সম্ভব।
চন্দ্রগ্রহণের ধরন
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে-
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ
এই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার সবচেয়ে অন্ধকার অংশের (Umbra) ভেতরে পুরোপুরি প্রবেশ করে। একে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তিম চাঁদ বলা হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের গায়ে পড়ার কারণে চাঁদকে লালচে-কমলা রঙের দেখায়।
আংশিক চন্দ্রগ্রহণ
চাঁদের একটি অংশ যখন পৃথিবীর গভীর ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করে, তখন পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের একটি অংশ ঢেকে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় চাঁদের একটি অংশ কেউ যেন কামড় দিয়ে কেটে নিয়েছে।
উপচ্ছায়ামূলক (পেনামব্রাল) চন্দ্রগ্রহণ
এই প্রক্রিয়ায় চাঁদ কেবল পৃথিবীর আবছা বা হালকা বাইরের ছায়ার (Penumbral Shadow) মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এটি এতই সূক্ষ্ম একটি পরিবর্তন যে খালি চোখে দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে গ্রহণ শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
সময়সূচি
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ২৩ মিনিট এই গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে ও শেষ হবে দুপুর ১টা ২ মিনিটে। যখন পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের সিংহভাগ ঢেকে যাবে, অর্থাৎ এই গ্রহণের চরম মুহূর্তটি (Peak Time) দেখা যাবে সকাল ১০ টা ১৩ মিনিটে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দৃশ্যমানতা
গ্রহণ চলাকালীন সময়ে ওই অঞ্চলে দিন থাকার কারণে বাংলাদেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। ঠিক একই কারণে অস্ট্রেলিয়া, অ্যান্টার্কটিকা ও ‘প্যাসিফিক রিম’ বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চল থেকেও এটি দৃশ্যমান হবে না।
সূত্র: দ্য হিন্দু
এসএএইচ
বিজ্ঞাপন