বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরের তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে নতুন একটি পর্যটন জোন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
নগরীর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে এই পর্যটন জোনের কাজটি করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিডিএ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
আরও পড়ুন
সংস্কৃতি-পর্যটন উন্নয়নে একক নীতিমালা, হচ্ছে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া এখানে শিশুদের জন্য বিনোদন সুবিধাসহ পর্যটকবান্ধব রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা হবে।
সিডিএ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ‘কালুরঘাট-চাক্তাই চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক’ প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের জুন মাসে চাক্তাই খালের মোহনায় একটি স্লুইসগেট নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটির শুরুর দিকে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পরে কাজের পরিধি ও নকশা পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের খরচ ৪৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাস বলেন, নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সড়কটি সিটি বাইপাস লুপ রোড ও অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সংযুক্ত করবে এবং শহরের যানজট কমাবে। এতে কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা থেকে শহরে আসা যানবাহনগুলো এই সড়ক দিয়ে শহর কেন্দ্রকে বাইপাস করে শহরের বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে যেতে পারবে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো থেকে যানবাহনগুলো এর মাধ্যমে শহরের উত্তর দিকে যেতে পারবে।
আরও পড়ুন
চলনবিলে ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে: পর্যটনমন্ত্রী
তিনি জানান, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ৯২ শতাংশ নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কটি পুরোদমে চালু হলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া যাবে। এর ফলে নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নগর যোগাযোগ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে সিডিএ মাস্টার প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলবে। বাকলিয়া চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম অনুন্নত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এই এলাকার উন্নয়নে বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পর্যটন এলাকাটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানান তিনি।
এমডিআইএইচ/ইএ
বিজ্ঞাপন