বিজ্ঞাপন
মায়ের চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় এসে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা মনির হোসেন। রোববার (২৩ আগস্ট) কলকাতার নিউমার্কেট চত্বরের ‘সানভিউ’ আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন তারা। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালেই হোটেল ছেড়ে দিতে হবে।
হোটেল ছেড়ে দিয়ে এখন মা ও ছেলে নিউমার্কেট চত্বরে হোটেলের খোঁজে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া যেসব হোটেল এখনো বন্ধের নোটিশের আওতায় পড়েনি, তারা সুযোগ বুঝে ভাড়া চাচ্ছে দ্বিগুণ। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না মনির হোসেন।
মনির হোসেন বলেন, বলা হয়েছে নিউমার্কেট চত্বরের সব হোটেল আপাতত বন্ধ থাকবে। কারণ বলছে, এখানকার কোনো একটি হোটেলে আগুন লেগেছিল তাই।
তিনি বলেন, আমাদেরকে নিউমার্কেট এলাকায় বাইরে যেতে বলা হচ্ছে। মেডিক্যাল ভিসায় এসেছি, আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য। আমরা ভীষণ সমস্যায় পড়েছি, এখন আছি রাস্তায়। এখনো নতুন হোটেল পাইনি।
মনির হোসেনের মা বলেন, আমাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। এখনো হোটেল পাইনি, তাই রাস্তায় বসে আছি।
টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। তার মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ফলে হোটেল বন্ধ হওয়ার ঘটনায় পর্যটকদের সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরাও।
এদিকে, রাজ্য প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি- পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনির্বাপণ বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনগত রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট চত্বরের ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে নিহত হন ৯ জন। তাদের এর মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক ও বাকি দুজন ভারতীয়। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও ১টি শিশু রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিরা হলেন - কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী আফসানা শারমীন (শিম্মিন) (২৭), দেবাশীষ ও আফসানা দম্পতি শিশু সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৭৪), ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহমেদ বাবু (৩৭), সাতক্ষীরার রেবতী সরকার ও এসএম আলিমুজ্জামান।
অন্যদিকে, দুই ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) ও অন্যজন শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগ নারায়ণ আগারওয়াল (৬৮)।
ডিডি/এসএএইচ
বিজ্ঞাপন