বিজ্ঞাপন
একসময় দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খাতা-কলম ছিল মানুষের নিত্যসঙ্গী। বাজারের তালিকা, পড়াশোনার নোট, ব্যক্তিগত ডায়েরি কিংবা অফিসের প্রয়োজনীয় তথ্য লেখা হতো হাতে।
এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করেছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাব। কয়েক সেকেন্ডেই টাইপ করে সংরক্ষণ করা যায় প্রয়োজনীয় তথ্য। এতে সময় বাঁচলেও হাতে লেখার অভ্যাস হারিয়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
হাতে লেখার সময় মস্তিষ্কের ব্যস্ততা বাড়ে
কলম দিয়ে কাগজে লেখার সময় শুধু হাতই কাজ করে না। চোখে অক্ষর দেখা, হাতের নড়াচড়া এবং কী লেখা হচ্ছে তা বোঝার কাজ একসঙ্গে চলে। ফলে তথ্য গ্রহণের সময় মস্তিষ্ককে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকতে হয়।অক্ষরের আকার তৈরি করা, শব্দ সাজানো এবং বাক্য গঠন করার এই পুরো প্রক্রিয়া শেখার সঙ্গে হাতের কাজকে যুক্ত করে। তাই কোনো বিষয় মনে রাখার ক্ষেত্রে হাতে লেখা নোট অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে।
নোট লেখার সময় আসলে শেখাও হয়
ক্লাসে শিক্ষক বা মিটিংয়ে কেউ কথা বললে প্রতিটি শব্দ হাতে লিখে ফেলা সম্ভব নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বেছে নিতে হয়। এরপর সেগুলো নিজের মতো করে সংক্ষেপে লিখে রাখতে হয়।
এই সময় শুধু শোনা নয়, বিষয়টি বোঝা এবং কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করাও প্রয়োজন হয়। ফলে নোট নেওয়াটা হয়ে ওঠে শেখার একটি অংশ।
অন্যদিকে, কিবোর্ডে দ্রুত টাইপ করা যায় বলে অনেক সময় বক্তার কথা প্রায় হুবহু তুলে রাখা সম্ভব। এতে তথ্য জমা থাকে ঠিকই, কিন্তু সবকিছু গভীরভাবে বোঝার সুযোগ সবসময় নাও হতে পারে।
শিশুদের জন্য হাতে লেখা আরও জরুরি
শিশুরা যখন পেনসিল বা কলম ধরে অক্ষর লেখে, তখন চোখ ও হাতের সমন্বয় তৈরি হয়। অক্ষরের আকার চেনা, মনে রাখা এবং সেটি কাগজে ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে তাদের সূক্ষ্ম হাতের নড়াচড়ার দক্ষতাও বাড়ে।তাই ছোটদের পড়াশোনায় শুধু ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর নির্ভর না করে খাতা-কলমে লেখার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মস্তিষ্কের তরঙ্গের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে
হাতে লেখার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সক্রিয় হতে পারে। কিছু গবেষণায় হাতে লেখা ও শেখার সময় মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট তরঙ্গ ও স্নায়বিক সক্রিয়তার সম্পর্কও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ কারণে হাতে লেখা তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে শুধু হাতে লিখলেই স্মৃতিশক্তি দ্বিগুণ হয়ে যাবে বা টাইপিং মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। শেখার ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে পার্থক্য থাকে এবং তথ্য মনে রাখার পেছনে ঘুম, মনোযোগ, অনুশীলন ও বিষয়টি বোঝার মতো অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
টাইপিং কি তাহলে বাদ?
মোটেই নয়। দ্রুত কাজের ক্ষেত্রে টাইপিংয়ের বিকল্প নেই। অফিসের প্রতিবেদন, ই-মেইল, বড় লেখা কিংবা তথ্য সংরক্ষণে ক্ষেত্রেই কিবোর্ড অত্যন্ত কার্যকর।
আরও পড়ুন
প্রথম প্রেম ভুলে যাওয়া কঠিন কেন?
তবে পড়াশোনা বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় মনে রাখতে চাইলে মাঝে মাঝে খাতা-কলমে নোট নেওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো বিষয় নিজের ভাষায় লিখে রাখলে সেটি বোঝা ও পরে মনে করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা মিলতে পারে। প্রযুক্তির যুগে খাতা-কলম হয়তো আগের মতো প্রতিদিনের সঙ্গী নয়।
আরও পড়ুন
সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়েছে বুঝে নিন সাধারণ ৫ লক্ষণে
তবু শেখা, ভাবা ও নিজের চিন্তাকে গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে হাতে লেখার অভ্যাস এখনও বেশ মূল্যবান। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী কিবোর্ডের পাশাপাশি খাতা-কলমকে ও ফিরিয়ে আনতে পারেন দৈনন্দিন জীবনে। সূত্র: সাইকোলজি টুডে, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন