জাতীয়

মুখে কামড় লেগে রক্তপাতে চিনি দিয়ে সত্যিই কি বন্ধ হয়?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
8 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
খাবার খেতে খেতে অসাবধানতাবশত নিজের দাঁতের কামড়ে জিভ কিংবা গালের ভেতরে ক্ষত তৈরি হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এক মুহূর্তেই তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং কখনো কখনো রক্তপাত শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বাড়িতেই বয়স্করা ক্ষতস্থানে এক চিমটি চিনি বা গুড় চেপে ধরার পরামর্শ দেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে, চিনি দিলে আসলে কী হয়? এটি কি সত্যিই রক্তপাত বন্ধ করে, নাকি শুধুই প্রচলিত ধারণা? কেন মুখের ক্ষতে চিনি দেওয়া হয়? চিনির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি পানি বা আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। ঘন চিনির সংস্পর্শে ক্ষতস্থানের আর্দ্রতা কিছুটা কমে যায়। এই প্রক্রিয়াকে অসমোসিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিনি ক্ষতস্থানের সব পানি বা আর্দ্রতা শুষে নেয়। ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর জীবাণু বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজন। আর্দ্রতা কমে গেলে ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং জায়গাটি প্রাকৃতিক উপায়ে জীবাণুমুক্ত হতে শুরু করে। ব্যথা কিছুটা কম মনে হতে পারে মুখে চিনি দিলে মিষ্টি স্বাদের কারণে জিহ্বার স্বাদগ্রাহী স্নায়ুগুলো সক্রিয় হয়। মিষ্টির অনুভূতির সংকেত পৌঁছালে ব্রেন ‘এন্ডোরফিন’ নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হরমোন নিঃসরিত করে। এটি কামড় লাগার তীব্র যন্ত্রণার অনুভূতির তীব্রতাকে সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। রক্তপাত বন্ধে চিনি কতটা কার্যকর? জিভ কিংবা গালের ভেতরের ছোট ক্ষত স্থানে চিনি চেপে রাখলে তা সাময়িকভাবে রক্তনালির মুখের ওপর প্রলেপ বা ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার তৈরি করে। এর ফলে তরল রক্তের গতি কিছুটা কমে এবং লালার সংমিশ্রণে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। চিনি কখন ব্যবহার করবেন যদি হঠাৎ তীব্র কামড় লাগে এবং হাতের কাছে কোনো অ্যান্টিসেপ্টিক বা বরফ না থাকে, তবে রক্তপাত থামাতে বা ব্যথা কমাতে এক চিমটি চিনি দেওয়া সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও কার্যকর। তবে যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকে, তাদের মুখের ভেতরের রক্তনালি ও লালায় শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারেন। চিনি দিলে রক্তে শর্করা না বাড়লেও মুখ ও মাড়িতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন (যেমন-ওরাল ক্যান্ডিডায়াসিস) বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া মুখে দীর্ঘক্ষণ চিনি রাখলে দাঁতের ফাঁকে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো মিষ্টি পেয়ে দ্রুত অম্ল বা অ্যাসিড তৈরি করে, যা পরবর্তীতে দাঁতের এনামেল নষ্ট করে ‘ক্যাভিটি’ বা ডেন্টাল ক্যারিজের সৃষ্টি করতে পারে। মুখে কামড় লাগলে যা করবেন জিভ বা গালের ভেতরে কামড় লেগে গেলে প্রথমে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। রক্তপাত হলে পরিষ্কার গজ বা নরম কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থানে কয়েক মিনিট হালকা চাপ দিন। ফোলা বা ব্যথা থাকলে বাইরে থেকে কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্ষত পরিষ্কার রাখার জন্য হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করাও আরাম দিতে পারে। তবে খুব জোরে কুলকুচি না করাই ভালো, কারণ এতে ক্ষতস্থানে আবার রক্তপাত শুরু হতে পারে। এছাড়া চিনির বদলে খাঁটি মধু ব্যবহার করুন। মধুতে প্রাকৃতিক ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা কোনোরূপ সংক্রমণ ছাড়াই জিভ ও গালের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। আরও পড়ুন ভারী খাবারের সঙ্গে শসা-লেবু কেন খাবেন? কারা বেশি সতর্ক থাকবেন ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া বা মুখের সংক্রমণের সমস্যা থাকলে মুখের ক্ষতকে অবহেলা করা ঠিক নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আরও পড়ুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখ শুকিয়ে যায় কেন? কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন সামান্য কামড়ের ক্ষত সাধারণত নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষত গভীর হলে, দীর্ঘ সময় চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত বন্ধ না হলে, অতিরিক্ত ফোলা বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ক্ষত কয়েক দিনেও ভালো না হলে কিংবা বারবার একই জায়গায় ঘা হলে ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>