বিজ্ঞাপন
২০১৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাত কাটা কাশেমের’ পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হান্নান আবুল কাশেমের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় ‘হাতকাটা কাশেম’ কারাগারে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ এম আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন খালেদা জিয়া। তার গাড়িবহর রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকা ও প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় গাড়িবহর ভাঙচুর করা হয়। হামলায় এসএসএফ সদস্য, সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মো. বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় মোট ১০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম ৪৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। গত ১৮ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, ৯ বছর পর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই দিন তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী মনির হোসেন সুমন জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান আদালতকে জানান, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে তেজগাঁও, গুলশান ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।
মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নিয়ে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমডিএএ/ইএ
বিজ্ঞাপন