বিজ্ঞাপন
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার অন্যতম বড় কারণ জেন্ডার বৈষম্য। জন্মের পর থেকেই একটি শিশু বিভিন্নভাবে এই বৈষম্যের শিকার হয়। কন্যাশিশুরা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেন্ডার বৈষম্যের মুখোমুখি হয়। এ বৈষম্য দূর করে জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিবার ও সমাজ গঠনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের উদ্যোগে নারী ও শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ ও হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নতুন অডিটোরিয়াম-২-এ এই সভার আয়োজন করা হয়।
‘শিশুদের শৈশবকে সুরক্ষিত রাখুন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত সভায় শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষার আহ্বান জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম।
আরও পড়ুন
থামছেই না নারী-শিশু নির্যাতন, প্রতি মাসে গড়ে ১৭৭৮ মামলা
সভায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার রোজী, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা এবং লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি সিকদার উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ মোট ৬২ জন অংশ নেন। সভা সঞ্চালনা করেন কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা জাহান ইকরা ও আসিফা জামান আঁচল।
সভায় ডা. নাজমুন নাহার রোজী বলেন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত ঘরে ও বাইরে যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় নারী ও শিশুরা অশোভন স্পর্শের শিকার হন। এসব ঘটনা প্রতিরোধে ছাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বন ও প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হবে।
রেখা সাহা বলেন, ২৪ আগস্ট নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় কিশোরী ইয়াসমিনকে কতিপয় পুলিশ সদস্য কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর এ দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার অন্যতম বড় কারণ জেন্ডার বৈষম্য। জন্মের পর থেকেই একটি শিশু বিভিন্নভাবে এই বৈষম্যের শিকার হয়। কন্যাশিশুরা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেন্ডার বৈষম্যের মুখোমুখি হয়। এ বৈষম্য দূর করে জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিবার ও সমাজ গঠনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
রেখা সাহা বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৯৭০ সাল থেকে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী-পুরুষের জন্য সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের তরুণ সমাজই ভবিষ্যতের কর্ণধার। তাই তরুণদের সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাদের যুক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন
ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ৩১ বছর, কমেনি নারীর প্রতি সহিংসতা
অ্যাডভোকেট দীপ্তি সিকদার বলেন, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন একটি সামাজিক অপরাধ। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে কমিটি থাকার কথা। কোনো শিক্ষার্থী সহিংসতার শিকার হলে ওই কমিটিতে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই নারী ও শিশুরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। এসব সেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো ও সচেতন করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম তরুণ প্রজন্মকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেন্ডার অসমতা দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার শুভ সূচনা হলো। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজকে যৌন নিপীড়নমুক্ত রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে। যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের কোনো ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ইএইচটি/এমএমকে
বিজ্ঞাপন