জাতীয়

ডিমান্ড নোটের ৭৫ কোটি টাকা দিয়েও মিলছে না গ্যাস

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
গ্যাসলাইন না থাকায় বিনিয়োগ করছে না ব্যাংক ঋণের সুদ-প্লটের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে চাপে উদ্যোক্তারা প্লটের মাটির কাজ-রাস্তা-ড্রেন নিয়েও অভিযোগ দীর্ঘ চার বছর আগে ডিমান্ড নোটের ৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (পিজিসিএল) পরিশোধ করেও গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে না যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ‌‘সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক। ফলে সরকারের ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিল্পপার্কে ৮২৯টি প্লট বরাদ্দ পাওয়া দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিল্পপার্কের ৮২৯টি প্লটে গ্যাস সংযোগ নিতে ২০২২ সালের ২০ জুন পিজিসিএলের অনুকূলে ৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জমা দেয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। পরবর্তী সময়ে পিজিসিএল ঢাকার ডন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যায়ে শিল্পপার্কের প্রধান ফটক পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এরপর শিল্পপার্কের ভেতরে গ্যাস সরবরাহের অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ আজও অদৃশ্য কারণে শুরু হয়নি। এতে নতুন স্বপ্ন নিয়ে প্লট বরাদ্দ নেওয়া উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন। দেশের চলমান গ্যাস-সংকট তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ২৭৯টি ও বিদেশি চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য ৫৫০টি প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনা ছিল। ১৩ আগস্ট ৫৫৭টি প্লট বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক। তবে দেশীয় উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পেলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির স্থায়ী সংযোগ না থাকায় এখনো তারা উৎপাদনে যেতে পারছেন না’ শিল্পপার্কে দ্রুত গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। শিল্পপার্ক কার্যালয় সূত্র জানায়, গ্যাসলাইন দ্রুত স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৪ এপ্রিল পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে তাগিদপত্র পাঠায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ২০ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিসিক শাখাও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তাগিদপত্র পাঠিয়ে দেয়। তারপরও গ্যাস সংযোগে কোনো সাড়া মিলছে না। ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে দুটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু গ্যাস সংযোগ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছি। গ্যাসলাইন না থাকায় ব্যাংকও কোনো বিনিয়োগ করছে না’ সূত্রটি আরও জানায়, প্রকল্পে ২৭৫ একর জমিতে এ, বি ও এস—এই তিন ক্যাটাগরিতে ৮২৯টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি প্লট বিদেশি এবং ২৭৯টি প্লট দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির প্লট ২০ হাজার বর্গফুট, ‘বি’ ক্যাটাগরির ১০ হাজার বর্গফুট এবং ‘এস’ ক্যাটাগরির প্লট ৬ থেকে ২৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের। দুই ধাপে ২৭২টি প্লট দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সূত্র বলছে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ২৭৯টি ও বিদেশি চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য ৫৫০টি প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনা ছিল। ১৩ আগস্ট ৫৫৭টি প্লট বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক। তবে দেশীয় উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পেলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির স্থায়ী সংযোগ না থাকায় এখনো তারা উৎপাদনে যেতে পারছেন না। প্লটের মাটির কাজ, রাস্তা ও ড্রেন নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদ ও প্লটের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন। ‘অতিবৃষ্টির কারণে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। কাজ শেষ হওয়ার পর সরকারের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ থাকলে অবশ্যই সংযোগ দেওয়া হবে’—পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপার্কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও সড়কের কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম রাখার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিসিক তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় দুই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হলেও সেই অর্থ আজও আদায় হয়নি বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজা নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে শিল্পপার্কটি গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের জুনে। তবে পরে সাত দফা মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। এতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা পরে কয়েক দফায় বেড়ে দাঁড়ায় ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটি কাগজ-কলমে সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে এখনো অসম্পূর্ণই রয়েছে। আরও পড়ুন ‘লোডশেডিং-গ্যাস সংকটের পর এখন পানি আসছে না, কার কাছে বলব এই দুঃখ’ শিল্পপার্কে চারটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন যমুনা পেপার অ্যান্ড বোর্ড ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, প্লটগুলো যেমন এখনো অসম্পূর্ণ, তেমনই গ্যাসলাইনও স্থাপন করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় তিনি কী করবেন বুঝে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরও পড়ুন এলএনজি কার্গো এসেছে, তবে এখনই কাটছে না গ্যাস সংকট ছয়টি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন জিলানি অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের। তিনি জানান, বরাদ্দ পাওয়া স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ শেষে এখন মেশিনপত্র স্থাপনের কাজ চলছে। এটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে গ্যাস সংযোগ না থাকায় তিনি উৎপাদনে যেতে পারছেন না। আবার কবে নাগাদ গ্যাস সংযোগ পাবেন, সেটিও তাদের অজানা। এমন অনিশ্চয়তায় অনেক উদ্যোক্তাই বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আরও পড়ুন জ্বালানিতে ‘জ্বলছে’ শেয়ারবাজার যমুনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ইকবাল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে দুটি প্লটবরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু গ্যাস সংযোগ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছি। গ্যাসলাইন না থাকায় ব্যাংকও কোনো বিনিয়োগ করছে না।’ আরও পড়ুন বাড়তি আমদানিতেও সিলিন্ডার গ্যাসে সংকট হতাশা প্রকাশ করে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক শিল্প উদ্যোক্তা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, ‘জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকলে এখানে কেন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন? ব্যাংকও ঋণ দেবে না। দ্রুত গ্যাসলাইন স্থাপনসহ সব ধরনের সেবা নিশ্চিত না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তির টাকা কেউ জমা দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ আরও পড়ুন সার মজুতে ঘাটতি নেই, গ্যাস-জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নানা উদ্যোগ সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের প্রধান কর্মকর্তা হিরণ্ময় বর্দ্ধন জানান, পিজিসিএল অভ্যন্তরীণ গ্যাসলাইন স্থাপনের কাজ শেষ না করায় উদ্যোক্তারা তাদের চাপ দিচ্ছেন। তারাও একাধিকবার পিজিসিএলকে বিষয়টি জানালেও কাজ হচ্ছে না। তবে তারা আশাবাদী পিজিসিএল দ্রুত সংযোগের কাজটি শুরু করবে। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ অফিসে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা-ভাঙচুর, কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এ বিষয়ে পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এস এম তরিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। কাজ শেষ হওয়ার পর সরকারের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ থাকলে অবশ্যই সংযোগ দেওয়া হবে।’ এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>