বিজ্ঞাপন
শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে নিজেদের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যে বিভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা দল।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক এবং সংলাপ ও যোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তা অভ্র ভট্টাচার্যের পাঠানো এক ব্যাখ্যায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টে (The Dissent) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে উপস্থাপিত একটি তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
৮ মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান হারিয়েছে ৬২ হাজার: সিপিডি
সিপিডির উপস্থাপিত প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়েছিল, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়ে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী—এই তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন।
সিপিডি জানায়, প্রতিবেদনের গবেষণাপদ্ধতিতে সংসদীয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বক্তব্য, জাতীয় বাজেট, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎস ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে শিল্পকারখানা বন্ধসংক্রান্ত ওই তথ্যটি ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদন তৈরির সময় সিপিডির পক্ষ থেকে তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করা হয়নি।
আরও পড়ুন
রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয়: সিপিডি
পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের ওই সংবাদে ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মূল সময়কাল পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর ফলে কারখানা বন্ধের সংখ্যা ও কর্মহীন মানুষের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ঢাকা ট্রিবিউন ২৫ আগস্ট বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে তাদের প্রতিবেদনটি সংশোধন করেছে বলে জানায় সিপিডি।
আরও পড়ুন
এআই-অটোমেশন / ঝুঁকিতে পোশাক খাতের ১২ লাখের বেশি চাকরি, প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ: সিপিডি
ব্যাখ্যায় অভ্র ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন উল্লেখ করে সিপিডি বলেছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণেই শিল্প খাতের পরিস্থিতিটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল।
সিপিডির দাবি, উপস্থাপিত তথ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাদের উদ্বেগ অমূলক নয়। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে সিপিডির গবেষণা দল আরও সতর্ক থাকবে বলে ব্যাখ্যায় জানানো হয়।
একই সঙ্গে বিষয়টি সিপিডির নজরে আনার জন্য দ্য ডিসেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সিপিডি।
এসএম/এমএমকে
বিজ্ঞাপন