জাতীয়

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'রেড ফ্ল্যাগ' কী?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপক মুফতি মেন্‌ক প্রশ্ন করেন, বিয়ের জন্য জীবনসঙ্গী খোঁজার সময় কোন বিষয়গুলোকে সতর্কসংকেত বা \'রেড ফ্ল্যাগ\' হিসেবে বিবেচনা করা উচিত? উত্তরে মুফতি মেন্‌ক বলেন, বিয়ে বা জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে নানাবিধ ‘রেড ফ্ল্যাগ’ থাকে। আমি কয়েকটি রেড ফ্ল্যাগের কথা বলতে পারি। হবু জীবনসঙ্গীর যদি অত্যন্ত বাজে কোনো অভ্যাস বা আসক্তি থাকে এবং সে বলে, ‘কোনো চিন্তা করবেন না, বিয়ের পর ইনশাআল্লাহ আমি নিজেকে শুধরে নেব’, তাহলে সতর্ক হতে হবে। এটি একটি সুস্পষ্ট বিপদের সংকেত। এই ধরনের বদভ্যাস বিয়ের আগেই ত্যাগ করা উচিত, বিয়ের পরে নয়। বিয়ের মতো বড় ঘটনার জন্য যে পরিবর্তন আসে না, বিয়ের পর সেক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটবে এমনটা ভেবে নেওয়া ভুল, বাস্তবে তা খুব কমই ঘটে। ছোটখাটো বিষয়ে হয়তো সময়ে কিছু পরিবর্তন আসে, কিন্তু বড় কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন কেউ যদি বলে যে সে আগে মাদকে আসক্ত ছিল এবং এখন তা ছাড়ার চেষ্টা করছে তাহলে বিষয়টি নিয়ে আরও বিশদভাবে খোঁজখবর নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যদিও অনেকেই এসব তথ্য গোপন করতে চায়। আজকাল মানুষ আরেকটি বড় ভুল করছে, তা হলো বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আবেগের বশে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। এটি এক বিরাট বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এর ফলে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। অনেকে এসে বলেন যে, তাদের বাবার পক্ষ থেকে একটি বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু তারা ইতিমধ্যেই অন্য কারো প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী হয়ে পড়েছেন। আরও পড়ুন হালাল উপায়ে ডেট করবেন কীভাবে? মুফতি মেন্‌কের পরামর্শ যে মানুষটির সাথে এই মানসিক বা আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমটি প্রথমত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট বা অনলাইনভিত্তিক। সেই পর্দার পেছনের মানুষটি বাস্তব জীবনে হয়তো আপনার সাথে মিথ্যা বলেছে। বাস্তবতার মুখোমুখি হলে দেখা যাবে, আপনি তাঁর জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না, কারণ তার জীবনমানের সাথে আপনার জীবনমানের আকাশ-পাতাল তফাত। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সামঞ্জস্য বা সমকক্ষতা দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অনলাইনে গড়ে ওঠা অনুরাগের কারণে আমরা প্রায়শই এই সামঞ্জস্যতার বিষয়টি এড়িয়ে যাই। পরবর্তীতে যখন বাস্তবে সেই মানুষের ঘরে পা রাখা হয়, তখন দেখা যায় যে সেখানে থাকার মতো ন্যূনতম উপযুক্ত পরিবেশ বা সুবিধাটুকুও নেই। তখন উপলব্ধি হয় যে, জীবনের বাকি সময়টা এই জায়গায় কাটানো সত্যিই অসম্ভব। ভুল মানুষের পেছনেই অনেক বেশি সময় ও আবেগ ব্যয় করা হয়েছে। এটি বর্তমান যুগে পাত্র-পাত্রী খোঁজার পদ্ধতির একটি মস্ত বড় দুর্বলতা। অনলাইনে যোগাযোগের সময় মানুষকে খুব মিষ্টি ও প্রশান্তিদায়ক মনে হতে পারে, কিন্তু হতে পারে সেই মানুষটি আপনার জীবনব্যবস্থার সাথে কোনোভাবেই খাপ খায় না। তাই পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের জন্য সামনাসামনি পরিচয় বা সশরীরে সাক্ষাৎকেই গুরুত্ব দিতে হবে। একে অপরের সাথে কথা বলতে হবে এবং উভয়ের জীবনযাত্রা ও পরিবেশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। আরও পড়ুন বিয়ের নামাজ কত রাকাত? ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>