বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ন্যূনতম টার্নওভার করহার কমাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন আয়কর আইনে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে বার্ষিক বিক্রির ওপর ন্যূনতম টার্নওভার কর ১ শতাংশ আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে এনবিআর।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ কোটি টাকার বেশি হলে ন্যূনতম টার্নওভার কর হবে দশমিক ৫ শতাংশ। এর প্রজ্ঞাপন নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন
কী হলো রাজস্ব সম্মেলনে, যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বার্ষিক বিক্রি ২ কোটি টাকা পর্যন্ত থাকবে করমুক্ত। তবে বার্ষিক মোট বিক্রি ২ কোটি টাকা থেকে চার কোটির মধ্যে হলে টার্নওভার কর হবে দশমিক ৫ শতাংশ আর ৪ কোটি টাকার বেশি হলে টার্নওভার কর হবে ১ শতাংশ।
টার্নওভার কর কী
টার্নওভার কর হলো ব্যবসার মোট বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেনের ওপর নির্ধারিত হারে প্রদেয় একটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর, যা মুনাফা না থাকলেও পরিশোধ করতে হয়।
আয়কর আইনজীবী হাসানুর রহমান জানান, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩-এ টার্নওভার করের বিধান রয়েছে। অর্থ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে সংশোধিত ধারা ১৬৩(৬) অনুযায়ী, উপধারা (৩) অনুসারে নির্ধারিত কর যদি নির্ধারিত টার্নওভার করের চেয়ে কম হয়, তাহলে ব্যবসা বা পেশার মোট গ্রস প্রাপ্তি-এর ওপর নির্ধারিত হারে টার্নওভার কর পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, আইন যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেছে, সেখানে প্রকৃত মুনাফার পরিবর্তে মোট বিক্রয় বা গ্রস প্রাপ্তিই কর নির্ধারণের ভিত্তি হবে।
আরও পড়ুন
অন্যান্য বছরের থেকে এবারে আয়করের কী কী পার্থক্য, জেনে রাখুন
তিনি বলেন, সংশোধিত বিধান অনুযায়ী তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারকের ক্ষেত্রে টার্নওভার করের হার ৩ শতাংশ, কার্বনেটেড ও মিষ্টি পানীয় প্রস্তুতকারকের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ, মোবাইল ফোন অপারেটর ও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১.৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর এই করহার নিয়ে উদ্বেগ জানান ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা সীমিত মূলধন নিয়ে পরিচালিত হয়। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ ব্যাংকসুদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক ব্যবসা খুব কম মুনাফায় কিংবা লোকসানে পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত লাভের পরিবর্তে টার্নওভারের ওপর কর নির্ধারণ অনেক উদ্যোক্তার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
এসএম/ইএ
বিজ্ঞাপন