ব্রেকিং নিউজ
নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ১৫০০, মৃত্যু ১৬৫- এর বেশি হিমবাহ ধস নাকি অন্য কিছু? নেপালের ভয়াবহ বন্যা নিয়ে রহস্য ‌'আপনার মেয়ে নাকি বিড়াল হয়ে গেছে?’—এমন কথাও শুনতে হচ্ছে সংখ্যায় লেখা এই পৃথিবী পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আনা হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার গাড়ি স্বামীর প্রতি লাল চুলের নারীর আগ্রহ, যেভাবে জন্ম নেয় ডলির ‘জোলিন’ অর্ধশতাব্দী পরও নজরুল: সাম্য, মানবতা ও দ্রোহের অনির্বাণ শিখা রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুন নিয়ে এত সন্দেহ ও অবিশ্বাস কেন? মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল ১ হাজার বস্তা সিমেন্ট-২৮০ বস্তা সার নেপাল–তিব্বতে মৃত্যু বেড়ে ১৭৭, নিখোঁজ হাজারের বেশি
জাতীয়

নীলক্ষেত থেকে নয়, নিজের সিভি নিজে তৈরি করতে হবে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
মানবসম্পদ বিভাগকে কী কী চ্যালেঞ্জের মধ্যেদিয়ে যেতে হয়? কেমন কর্মী নেন তারা, কীভাবে বাছাই করেন তাদের। প্রার্থীর কী কী ভুলে তাদের অযোগ্য বিবেচনা করা হয়? এসব নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন তরুণ মানবসম্পদ পেশাজীবী ও ওয়ালটন প্লাজার হেড অব এইচআরএম ফয়সাল ওয়াহিদ। জাগো নিউজ: মানবসম্পদ বা এইচআরের কাজ কতটা চ্যালেঞ্জিং? ফয়সাল ওয়াহিদ: এইচআর সবসময়ই একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। এটা হচ্ছে ডে টু ডে কাজ। আমাদের রেগুলার কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং। ধরা যাক, রিক্রুটমেন্টের কথা। একটা পজিশনে হয়তো রাইট ক্যান্ডিডেট পাচ্ছেন না, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমি কি ওই পজিশনটা একটা সার্টেন পিরিয়ডের জন্য ফাঁকা রাখব; নাকি তাড়াহুড়ো করে একজনকে নিয়োগ দিয়ে দেবো?  যদি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের কথা চিন্তা করি, সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই ওই জায়গায় তাড়াহুড়ো করব না। বরং আমি সময় নেবো, সেটা হতে পারে এক মাস, দেড় মাস অথবা দুই মাস। কিন্তু ওই ডিপার্টমেন্ট থেকেও একটা প্রেশার থাকে লোক দিতে পারছেন না বলে। কিন্তু একটা ভালো লোক নেওয়ার জন্যই হয়তো আমি একটু সময় নিচ্ছি। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আরেকটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ধরেন যখন রিক্রুট করব; তখন আমি কি রিক্রুটমেন্টটা এক্সটার্নাল করব না ইনটার্নাল করব? এ রকম একটা সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হয়। অনেক সময় ইনটার্নাল যোগ্য লোক যদি থাকে, তাহলে ভালো লোককেই রিক্রুট করার চেষ্টা করি। বা যদি ভেতরে ভালো লোক না থাকে, তাহলে দেখা যায় অনেকে ১০ বছর ধরে কাজ করছেন, এমন প্রার্থীকে বাইরে থেকে রিক্রুট করি। এগুলো জটিল সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আরও পড়ুন কর্মী নেওয়াই শেষ কাজ নয়, তার উদ্দীপনাও ধরে রাখতে হয় জাগো নিউজ: পদোন্নতির ক্ষেত্রে আপনারা কোন ধরণের কর্মীকে গুরুত্ব দেন? ফয়সাল ওয়াহিদ: অনেক সময় থাকে যে, অভিজ্ঞতা বনাম পটেনশিয়ালিটি … এক জনের ১২ বছরের অভিজ্ঞতা একটা পজিশনের জন্য, আবার দেখা যাচ্ছে আরেকজন আছে সে হয়তো ৮ বছরের অভিজ্ঞ। কিন্তু ৮ বছরের যে এক্সপেরিয়েন্সটা, সেটা অনেক পটেনশিয়াল। তার মধ্যে স্কিল বলেন বা লিডারশিপ কোয়ালিটি বলেন দুটোই আছে। তাহলে আমি প্রমোশনের ক্ষেত্রে কাকে প্রায়োরিটি দেবো? আমি কি ১২ বছরের যে এক্সপেরিয়েন্স তাকে প্রায়োরিটি দেবো নাকি ৮ বছরের যে পটেনশিয়াল? এ ধরনের নানা চ্যালেঞ্জ আমাদের সারা বছর লেগেই থাকে। জাগো নিউজ: চাকরিপ্রত্যাশীর কোন গুনটি আপনাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়? ফয়সাল ওয়াহিদ: ‘উই হায়ার ফর অ্যাটিটুড অ্যান্ড ট্রেইন ফর স্কিল।’ দক্ষতা আপনাকে শেখানো যায়, কিন্তু কারও মনোভাব পরিবর্তন করা যায় না। ওয়ালটনে যখন আমরা কাউকে রিক্রুট করি, আমরা দেখি যে প্রার্থীর কতটুকু পজিটিভ এটিটুড আছে। সে কাজটাকে ওউন করে কি না। তারপর আমাদের যে কালচার, এই কালচারের সাথে দ্রুত সে মানিয়ে নিতে পারবে কি না, মানে অ্যাডাপ্টিবিলিটির যে স্কিলটা, প্রার্থীর সেটা আছে কি না। অনেক সময় আমরা দেখি একজন কর্মী অনেক প্ল্যান করতে পারে। কিন্তু প্ল্যান অনুযায়ী কাজটা সে তুলে আনতে পারে কি না। এই জিনিসটাকে আমরা অনেক সময় প্রায়োরিটি দিয়ে থাকি। যে কোনো একটা ডাটা থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, এটা খুবই জরুরি। আমাদের ডাটা বিশ্লেষণ করার স্কিলটা জরুরি, তরুণদের এটা আয়ত্ত করতে হবে। তারপর হচ্ছে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স। আজকের জব মার্কেটে নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এই সিদ্ধান্তটা খুব দরকারি জব মার্কেটে, খুব জরুরি। আরও পড়ুন সার্টিফিকেট মানে চাবি, ভেতরের কাজগুলোর জন্য কর্মদক্ষতা প্রয়োজন আরেকটা হচ্ছে ক্রিটিক্যাল থিংকিং। যে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করার স্কিল থাকতে হবে। পরিবর্তনের সাথে আপনাকে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে। যে যত দ্রুত নতুন টেকনোলজি বলেন বা যে কোনো পরিবেশের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেই কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যায়, প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, যে কোনো জটিল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করাকেও আমরা প্রাধান্য দিই। শুধু বেসিক লেভেলের সমস্যার সমাধান করবেন বা গতানুগতিক কাজগুলো করবেন সেটা না, কমপ্লেক্স যে প্রবলেম আছে, সেগুলো সমাধানের দক্ষতাও থাকতে হবে। জাগো নিউজ: সার্বিক দিক থেকে যোগাযোগ দক্ষতাকে আপনারা কতটা জরুরি মনে করেন? ফয়সাল ওয়াহিদ: আমাদের কমন একটা গ্যাপ যে জিনিসটা থাকে, সেটা হচ্ছে কমিউনিকেশন। সাফল্যের একটা চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হয় কমিউনিকেশনকে। কমিউনিকেশন স্কিল অবশ্যই থাকতে হবে। শুধু ভালো বাংলা বা ভালো ইংরেজি বলা, একেই ভালো কমিউনিকেশন স্কিল বলা যাবে না। ইফেক্টিভ কমিউনিকেশনটা খুবই জরুরি। জাগো নিউজ: নির্ভুল সিভি একজন চাকরি প্রার্থীর জন্য কতটা জরুরি? ফয়সাল ওয়াহিদ: অনেকের সিভি থাকে কপিপেস্ট করা। যার যার সিভিটা তার নিজেকেই তৈরি করতে হবে। ধরেন একজন জার্নালিস্ট, আর আমি এইচআর প্রফেশনাল। আপনি আমার বড় ভাই, আপনার কাছ থেকে আমি সিভিটা নিয়ে কপিপেস্ট করে দিলাম। আপনার ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ, আর আমার ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ কখনই এক হবে না। তাই নিজের সিভি নিজেকেই তৈরি করতে হবে। এটা কখনই কপিপেস্ট করা যাবে না। এটা হচ্ছে সিভি বিষয়ে প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, আপনার সিভি অন্যকে দিয়ে করানো ঠিক নয়। আমরা অনেক সময় কি করি, আমার ইউনিভার্সিটি বা আদার যে জায়গাগুলো আছে, বিশেষ করে নীলক্ষেত বা এই টাইপ এরিয়াগুলোতে গিয়ে সিভিটা অন্যকে দিয়ে তৈরি করিয়ে থাকি। নিজের সিভিটা নিজে তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, সিভিতে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়। দেখা যায় আপনার কোনো এক্সপেরিয়েন্স নেই, কিন্তু ভুল তথ্য দিয়ে এক্সপেরিয়েন্স দেখানো হয়। অথবা স্কিল দেখানো হলো যে, প্রার্থী অ্যাডভান্স লেভেলের এক্সেল পারেন, কিন্তু আসলে তিনি বেসিক লেভেলটাও পারেন না। এই যে ভুল তথ্যগুলা দেওয়া হয়, এই তথ্যগুলো একজন প্রার্থীর জন্য ড্রব্যাক হতে পারে। আরও পড়ুন ইন্টারভিউতে বেসিক প্রশ্নগুলো জেনে আসতে হবে পাশাপাশি আরেকটা জিনিস সিভিতে ইদানীং বেশ পাচ্ছি, এটা আমাদের সময়ে হয়তো এতটা ছিল না, সেটা হচ্ছে প্রফেশনাল ছবি ব্যবহার না করা। অনেক সময় সেলফি ফটো দিয়ে দেয় বা যে ফটোটা দিচ্ছে সেটা হচ্ছে টোটালি কোনো প্রাসঙ্গিক ফটো না। ফটোটাও কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস হচ্ছে আপনার গ্রামাটিক্যাল বা স্পেলিং যে মিস্টেকগুলা, সেই জিনিসগুলোতে অবশ্যই একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জাগো নিউজ: ইন্টারভিউতে কেমন প্রস্তুতি নিয়ে আসা ভালো? ফয়সাল ওয়াহিদ: ইন্টারভিউতে ভালো করতে হলে প্রথমেই যে জিনিসগুলোকে প্রায়োরিটি দিই, সেটা হচ্ছে নিজের সম্পর্কে জানতে হবে ফার্স্ট। আপনার নিজেকে জেনে আসতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, কমন একটা প্রশ্ন থাকে যে, আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন। যেভাবেই প্রশ্নটা করা হোক না কেন, অনেক সময় দেখা যায় ক্যান্ডিডেট নিজের সম্পর্কেই ভালো আইডিয়া রাখে না। দ্বিতীয়ত আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জানা। শুধু ওয়েবসাইটে গেলেন, ওয়েবসাইট থেকে জাস্ট একটা ধারণা নিলেন, এটাই যথেষ্ট না। আপনার ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, তাদের বিজনেস, তাদের প্রোডাক্ট, কোন কোন জায়গায় অপারেশনটা পরিচালনা করছে— একটা ডিপ অ্যানালাইসিস করে তারপর ইন্টারভিউ দিতে যেতে হবে। তাদের আর্থিক অবস্থা বা যাবতীয় বিষয় অ্যানালাইসিস করে যেতে হবে। এটা খুবই জরুরি। জাগো নিউজ: ইন্টারভিউতে ভালো একটা গোপন টিপস শেয়ার করুন প্লিজ।  ফয়সাল ওয়াহিদ: একটা প্রশ্ন করার সময় আমরা বলি যে ‘স্টার’ মেথড। স্টার হচ্ছে, এস-এ হচ্ছে সিচুয়েশন। আপনি কোন সিচুয়েশনে একটা অ্যাচিভমেন্টের কথা বলবেন বা প্রিভিয়াস একটা কাজের কথা বলবেন। আপনি কোন সিচুয়েশনে কাজটা করেছিলেন। টি-তে আমরা বলি টাস্ক, আপনি যে টাস্ক করেছিলেন, সেই কাজটা আসলে কী ছিল। তারপর এ-তে একশন এবং আর-এ রেজাল্ট, আপনি সেই পরিস্থিতিতে কী অ্যাকশন নিয়েছিলেন এবং তার ফলাফল কী এসেছিল? শাহজালাল/এমআইএইচ/আরএমডি
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>